kalerkantho


কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে স্যামসাং গিয়ার ভিআর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ১৪:১৯



কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে স্যামসাং গিয়ার ভিআর

বিশ্বখ্যাত ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সম্প্রতি স্যামসাং গিয়ার ভিআর বাজারে এনেছে। এটি চলে ফেসবুকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওকুলাসের সফটওয়্যারে। সাম্প্রতিক মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে এটি উদ্বোধন করে স্যামসাং। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভার্চুয়াল রিয়ালিটি সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই তাদের বিষয়টি বোঝানো একটু কঠিন। এটি মূলত এমন একটি হেডসেট, যা মাথায় পরে নিলে ঘটতে থাকে মজার সব কাণ্ড। এতে প্রথমেই আপনার চোখকে বাস্তব পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর নানা দৃশ্য আপনি উপভোগ করতে পারবেন ঠিক যেন সেখানে রয়েছেন, এমন অনুভূতিতে। স্যামসাং তাদের গিয়ার ভিআর হেডসেটটিকে লাইফস্টাইল প্রোডাক্ট হিসেবে অভিহিত করছে। প্রাত্যহিক জীবনে এই হেডসেটটি নিকট-ভবিষ্যতে টিভি, কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
হেডসেটটিকে  মুভি দেখা ও গেম খেলার পাশাপাশি বিমান প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন ধরনের সিম্যুলেশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। যাদের মোশন সিকনেস আছে তাদের টেম্পল রানের মতো গেমগুলো খেলার সময় সাবধান থাকা উচিত যেহেতু হেডসেটটি এর ব্যবহারকারীকে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে দেখার অভিজ্ঞতা দেবে।
স্যামসাং গিয়ার ভিআর হেডসেটটির মাপ ২০১.৯ বাই ১১৬.৪ বাই ৯২.৬ মিলিমিটার। সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় স্মার্টফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন মুভি ও গেমস খেলা যাবে। ঘরে বসেই উপভোগ করা যাবে থ্রিডি সিনেমা।
তবে গ্যালাক্সি নোট৫, গ্যালাক্সি এস৬, গ্যালাক্সি এস৬ এজ, গ্যালাক্সি এস৬ এজ প্লাস ছাড়া হেডসেটটি অন্য সব হ্যান্ডসেটে কাজ করবে না। ২০১৬ সালে বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা গ্যালাক্সি এ৫ এবং এ৭ এর মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট মডেলেও চলবে এটি।
হেডসেটটিতে রয়েছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে। আছে এক্সিলেরোমিটার, জাইরো ও প্রক্সিমিটি সেন্সর। এই সেন্সরগুলোই কৃত্রিম জগতকে বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে আসে। ওজনেও হালকা—মাত্র ০.৭ এলবি। হেডসেটটি মাথায় বাঁধার জন্য আছে দুটি স্ট্রাপ। স্ট্রাপসহ হেডসেটটির ওজন মাত্র ৩২০ গ্রাম। এটি গোলগাল বা লম্বাটে যেকোনো মুখের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে। হেডসেটটির নিচের ডানদিকে রয়েছে একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, যা দিয়ে হেডসেটের ভেতরে থাকা স্মার্টফোনটিকে চার্জ দেওয়া যাবে। এছাড়া মাইক্রো ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে হেডসেটের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
হেডসেটটির ভেতরে রয়েছে দুটি লেন্স, যার মধ্য দিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাতে হবে। এই লেন্সগুলো ব্যবহারকারীকে ৯৬ ডিগ্রিতে দেখার অভিজ্ঞতা দেবে। ৩.৫ সেন্টিমিটার চওড়া এই লেন্সগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান হচ্ছে ২ সেন্টিমিটার। লেন্সগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে একটি ছোট সেন্সর, গিয়ার ব্যবহার করা না হলে পাওয়ার সেভিং মোডে পাঠিয়ে দিয়ে ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণে সাহায্য করে এটি।


মন্তব্য