একটি অভিনব প্রতারণার গল্প-330908 | তথ্যপ্রযুক্তি | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


একটি অভিনব প্রতারণার গল্প

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৬ ১৮:০২



একটি অভিনব প্রতারণার গল্প

বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান ইভানা (ছদ্মনাম)। ভালই চলছিল কাজ। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে সম্প্রতি কিছু রদবদল হয়েছে। নতুন লোকজনের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না তার। ভাবছেন জব চেঞ্জ করবেন। চেনাজানা জায়গায় সিভি ড্রপ করতে শুরু করলেন। পাশাপাশি ফেসবুকেও একদিন স্টেটাস দিলেন, 'সারচিং নিউ জব'। এমনটা অনেকেই করেন। কিন্তু এই ছোট স্টেটাসটাই ইভানাকে নিয়ে গেল একটি অভিনব প্রতারণার জগতে।
ইভানার ফ্রেন্ডলিস্টেই ছিলেন নেলসন ওনিল নামে এক ব্রিটিশ ভদ্রলোক। নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন স্টেটাস দেবার পর নেলসন হাই-হ্যালো শুরু করলেন ইভানার সাথে। ইভানা ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা এই ভদ্রলোককে খেয়াল করেননি। দেখলেন, বেশ আগে থেকেই বন্ধু তালিকায় আছে নেলসন। কথাবার্তায় ব্রিটিশই মনে হলো। নেলসন ইভানাকে সিভি পাঠাতে বললেন। জানালেন, বাংলাদেশে তাদের প্রজেক্ট আছে সে প্রোজেক্টেই লোক নেয়া হবে।  
ইভানা সরল মনে সিভি পাঠিয়ে দিলেন। সিভিতে ফোন নাম্বার, ঠিকানা সহ সব প্রয়োজনীয় তথ্যই ছিল। ফোন নাম্বার পেয়ে নেলসন এবার ফোন করা শুরু করলো। ব্রিটিশ উচ্চারণ, সুন্দর কণ্ঠ। ইভানাও ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্ট। তাই কথা চলে থাকলো।

কথাবার্তা কয়েকদিন যেতেই প্রেমের প্রস্তাব দিল নেলসন। একেবারে ইমোশনাল অ্যাপ্রোচে। গল্পটা এমন যে নেলসনের বউ মারা গেছে। দুইটা ছোট মেয়ে আছে। বউ মারা যাবার পর আর কোনো রিলেশনে জড়াননি তিনি। এখন ইভানার সঙ্গে কথা বলে ভাল লেগেছে। তার প্রেমে পড়ে গেছেন।
ইভানা বিবাহিত। নতুন প্রেমে জড়ানোর ইচ্ছা নেই। কিন্তু নেলসনের প্রস্তাবটা ভদ্রোচিত বলে পুরোপুরি এড়িয়েও যেতে পারলেন না। বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা চলতে থাকলো। কথাবার্তায় আপত্তিকর কিছু নেই। ফেসবুকের পাশাপাশি হোয়াটস অ্যাপেও যোগাযোগ হচ্ছে।

এরই মধ্যে একদিন নেলসন বললেন, তোমার ঠিকানায় সারপ্রাইজ পাঠাবো। ইভানা ভাবছেন কী সারপ্রাইজ। ভাবতে ভাবতেই কিছু ছবি এলো তার ইনবক্সে। ম্যাকবুক, আইফোন, গ্যালাক্সি নোটপ্যাড, হিরার আংটি, হার, গোল্ড রিস্ট লেট, গোল্ড ওয়াচ, পারফিউম, ব্যাগ, জুতা, গোলাপ। ছবি দিয়ে নেলসন জানালেন, এগুলো তোমার ঠিকানায় পাঠিয়েছি।
ইভানা বললেন, এগুলো তিনি গ্রহণ করতে পারবেন না। পার্সেল ফেরত যাবে।

পরদিন এলাইড কুরিয়ার থেকে ফোন এলো, আপনার নামে পার্সেল এসেছে। তারা ইভানার ঠিকানায় পার্সেল পাঠাতে চায়। ইভানা না বলে দিল।

এরপর ইভানার ফোনে এসএমএস এলো। আপনাকে পার্সেলটি রিসিভ করতেই হবে। লোকাল ক্লিয়ারেন্স ফি এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল থেকে নেলসন ওনিল ইভানার ঠিকানায় পার্সেল পাঠিয়েছেন তার অমতে। সেই পার্সেল তাকে নিতেই হবে। আর নিলে দিতে হবে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

ইভানা বুঝতে পারলেন, একটা প্রতারক চক্রের পাল্লায় পড়ে গেছেন তিনি। তার সিভিসহ অনেক তথ্যই তাদের কাছে। কী করবেন তিনি? ভয়ে ফোন বন্ধ করে বসে আছেন।

এদিকে নেলসন তাকে মেসেজ পাঠিয়েই যাচ্ছেন। এখনও তিনি প্রেমের অভিনয় করেই চলেছেন। বললেন, এই উপহার যেন না ফেরান ইভানা।

 

মন্তব্য