• ই-পেপার

ফেসবুক কর্মীদের বেতন তালিকা

গুগলের কর্মকর্তা ইভান কোটসোভিনোসকে নিয়োগ দিল গোল্ডম্যান স্যাকস

অনলাইন ডেস্ক
গুগলের কর্মকর্তা ইভান কোটসোভিনোসকে নিয়োগ দিল গোল্ডম্যান স্যাকস
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস গুগলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইভান কোটসোভিনোসকে নতুন অংশীদার (পার্টনার) এবং অ্যাসেট ও ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রয়টার্সের এক বিবৃতিতে গোল্ডম্যান স্যাকস এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন দায়িত্বে ইভান কোটসোভিনোস ব্যাংকটির সম্পদ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা (অ্যাসেট অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট) বিভাগে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর কাজ করবেন। বিনিয়োগের ফল ভালো করা, গ্রাহকসেবা উন্নত করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের নেতৃত্ব দেবেন।

এর আগে গুগলে তিনি প্রাইভেসি, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান ছিলেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করতেন।

গুগলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আমেরিকান এক্সপ্রেসে প্রযুক্তি অবকাঠামো বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া মরগ্যান স্ট্যানলির ইউরোপ ও এশিয়া অঞ্চলেও ইঞ্জিনিয়ারিং নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন।

গোল্ডম্যান স্যাকসের এই নিয়োগকে আর্থিক খাতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরো জোরদার করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো এআই নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক
চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো এআই নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য
ছবি ঃ রয়টার্স

চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাটবটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম আনার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে মানুষ আর্থিক পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব এআই টুলের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সোমবার (৬ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

সোমবার যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক শেলডন মিলস বলেন, চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির মতো সাধারণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বড় ভাষা মডেল (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় নেই। কিন্তু এগুলোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন কি না, তা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পর্যালোচনা করা উচিত।

এফসিএর এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ আর্থিক পরামর্শের জন্য চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনির মতো এআই টুলের ওপর আস্থা রাখছেন। তবে অনেকেই জানেন না, এসব এআই থেকে পাওয়া পরামর্শ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শের মতো আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়ে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহার করছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে এআই প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছে।

শুরুতে এআই মূলত অফিসের অভ্যন্তরীণ কাজেই ব্যবহৃত হলেও, এখন যুক্তরাজ্যের অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তি, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিভিন্ন গ্রাহকসেবায় এআই ব্যবহার শুরু করেছে।

তবে এফসিএ সতর্ক করে বলেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান যদি একই ধরনের এআই মডেল, ক্লাউড সেবা বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে পুরো আর্থিক খাত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এফসিএর চেয়ারম্যান অ্যাশলি অ্যালডার বলেন, এআই প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজন হলে বিদ্যমান নিয়মকানুনও পরিবর্তন করতে হবে।

স্মার্ট চশমা নির্মাতা ইভেন রিয়েলিটিজের মূল্য ১০০ কোটি ডলার

অনলাইন ডেস্ক
স্মার্ট চশমা নির্মাতা ইভেন রিয়েলিটিজের মূল্য ১০০ কোটি ডলার
ছবি : রয়টার্স

অ্যাপলের সাবেক কর্মকর্তা উইল ওয়াংয়ের প্রতিষ্ঠিত চীনা স্মার্ট চশমা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইভেন রিয়েলিটিজ নতুন বিনিয়োগ পেয়ে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) মূল্যমানের কম্পানিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে ১০০ কোটি ডলার (প্রায় ১২,৩৩০ কোটি বাংলাদেশি টাকা) বা তার বেশি মূল্যমানের বেসরকারি স্টার্টআপকে সাধারণত 'ইউনিকর্ন' বলা হয়।

সোমবার (৫ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়। 

সোমবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রি-সিরিজ বি বিনিয়োগ পর্বে তারা ১৫ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগে চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট, মেইতুয়ানসহ কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

এই অর্থ দিয়ে ইভেন রিয়েলিটিজ নতুন প্রজন্মের স্মার্ট চশমা তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, নতুন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করবে।

উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী উইল ওয়াং ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অ্যাপলে কাজ করেছেন। সে সময় তিনি অ্যাপল ওয়াচ ও আইফোনের উন্নয়ন এবং উৎপাদন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৩ সালে তিনি ইভেন রিয়েলিটিজ প্রতিষ্ঠা করেন।

গত বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটি ইভেন জি২ নামে একটি নতুন স্মার্ট চশমা বাজারে আনে। একই সঙ্গে ইভেন আর ১ নামে একটি স্মার্ট রিংও তৈরি করে, যার মাধ্যমে চশমাটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

মেটার রে-ব্যান স্মার্ট চশমার সঙ্গে ইভেন রিয়েলিটিজের চশমার একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। মেটার চশমায় ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু ইভেন রিয়েলিটিজের চশমায় কোনো ক্যামেরা বা রেকর্ডিং সুবিধা রাখা হয়নি। এতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চশমাটির লেন্সের ভেতরে ছোট একটি ডিসপ্লে রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী মোবাইলের নোটিফিকেশন দেখতে, বার্তা পড়তে, পথনির্দেশনা পেতে এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ দেখতে পারবেন। ফলে বারবার মোবাইল ফোন বের করার প্রয়োজন হবে না।

উইল ওয়াং বলেন, ভবিষ্যতে মানুষ তথ্য জানার জন্য সবসময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে না। প্রয়োজনের মুহূর্তেই স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারীর চোখের সামনে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখাবে, যাতে তিনি আশপাশের পরিবেশ থেকেও বিচ্ছিন্ন না হন।

কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের অর্ধেকের বেশি গ্রাহক যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ সফটওয়্যার ডেভেলপারও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বে স্মার্ট চশমার বাজার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট চশমা সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ বাজারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মেটা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চীনের রেনিও এবং শাওমি।

ভারতে

ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন নিয়ে চাপে মেটা

অনলাইন ডেস্ক
ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন নিয়ে চাপে মেটা
ছবিঃ রয়টার্স

ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে কড়া নোটিশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মেটার দুটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম—ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ—ভারত সরকারের নজরদারির মুখে পড়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

শনিবার  ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটাকে নির্দেশ দেয়, ইনস্টাগ্রামে থাকা শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত সব বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।

সম্প্রতি বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, ভারতে ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই ভারত সরকার মেটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে মেটা জানিয়েছে, শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত কোনো কনটেন্টের প্রতি তাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়মিত এ ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে বিশ্বের ৩৫০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর মধ্যে কিছু অপরাধী বিভিন্ন কৌশলে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারত বর্তমানে মেটার সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটিতে ৪৮ কোটির বেশি মানুষ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। এছাড়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় ভারতে বেশি।

এর আগে গত সপ্তাহে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ইউজারনেম সুবিধা নিয়েও আপত্তি জানায় ভারত সরকার। সরকারের আশঙ্কা, এই ফিচার চালু হলে সাইবার অপরাধ বাড়তে পারে। তাই ফিচারটি আপাতত চালু না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মেটা বলেছে, ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই নিরাপদে যোগাযোগের সুযোগ করে দিতেই এই ফিচার আনা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মেটার জন্য বড় সতর্কবার্তা। ভারতের মতো বিশাল বাজারে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং কনটেন্ট পর্যবেক্ষণে আরও কঠোর হতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

ফেসবুক কর্মীদের বেতন তালিকা | কালের কণ্ঠ