অ্যাপলের সাবেক কর্মকর্তা উইল ওয়াংয়ের প্রতিষ্ঠিত চীনা স্মার্ট চশমা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইভেন রিয়েলিটিজ নতুন বিনিয়োগ পেয়ে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) মূল্যমানের কম্পানিতে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে ১০০ কোটি ডলার (প্রায় ১২,৩৩০ কোটি বাংলাদেশি টাকা) বা তার বেশি মূল্যমানের বেসরকারি স্টার্টআপকে সাধারণত 'ইউনিকর্ন' বলা হয়।
সোমবার (৫ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
সোমবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রি-সিরিজ বি বিনিয়োগ পর্বে তারা ১৫ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগে চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট, মেইতুয়ানসহ কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
এই অর্থ দিয়ে ইভেন রিয়েলিটিজ নতুন প্রজন্মের স্মার্ট চশমা তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, নতুন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করবে।
উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী উইল ওয়াং ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অ্যাপলে কাজ করেছেন। সে সময় তিনি অ্যাপল ওয়াচ ও আইফোনের উন্নয়ন এবং উৎপাদন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৩ সালে তিনি ইভেন রিয়েলিটিজ প্রতিষ্ঠা করেন।
গত বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটি ইভেন জি২ নামে একটি নতুন স্মার্ট চশমা বাজারে আনে। একই সঙ্গে ইভেন আর ১ নামে একটি স্মার্ট রিংও তৈরি করে, যার মাধ্যমে চশমাটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মেটার রে-ব্যান স্মার্ট চশমার সঙ্গে ইভেন রিয়েলিটিজের চশমার একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। মেটার চশমায় ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু ইভেন রিয়েলিটিজের চশমায় কোনো ক্যামেরা বা রেকর্ডিং সুবিধা রাখা হয়নি। এতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চশমাটির লেন্সের ভেতরে ছোট একটি ডিসপ্লে রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী মোবাইলের নোটিফিকেশন দেখতে, বার্তা পড়তে, পথনির্দেশনা পেতে এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ দেখতে পারবেন। ফলে বারবার মোবাইল ফোন বের করার প্রয়োজন হবে না।
উইল ওয়াং বলেন, ভবিষ্যতে মানুষ তথ্য জানার জন্য সবসময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে না। প্রয়োজনের মুহূর্তেই স্মার্ট চশমা ব্যবহারকারীর চোখের সামনে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখাবে, যাতে তিনি আশপাশের পরিবেশ থেকেও বিচ্ছিন্ন না হন।
কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের অর্ধেকের বেশি গ্রাহক যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ সফটওয়্যার ডেভেলপারও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বে স্মার্ট চশমার বাজার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট চশমা সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ বাজারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মেটা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চীনের রেনিও এবং শাওমি।