কিশোরদের ইনস্টাগ্রামে আসক্ত করে তুলতে প্ল্যাটফর্মটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে—এমন অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিচার শুরু হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) ন্যাশভিলে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। মামলাটি প্রায় সাত সপ্তাহ চলতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির অভিযোগ, মেটা জেনেশুনে এমন কিছু ফিচার তৈরি করেছে, যা কিশোরদের বারবার ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এতে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে অঙ্গরাজ্যটি।
মামলায় বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম কিশোরদের ক্ষতি করতে পারে—এমন অনেক গবেষণার তথ্য মেটার কাছে ছিল। কিন্তু এসব তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ফিচার সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সতর্ক না করেই সেগুলো চালু রাখা হয়েছে।
টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আরো অভিযোগ, মেটার কিছু কর্মী কিশোরদের ওপর ইনস্টাগ্রামের খারাপ প্রভাব নিয়ে মার্ক জাকারবার্গকে সতর্ক করেছিলেন। তবে এসব ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে তিনি যথেষ্ট অর্থ দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় ইনস্টাগ্রামের অটোপ্লে, রিলস ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং নির্দিষ্ট সময় পর কনটেন্ট অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মতো ফিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টেনেসির দাবি, এসব ফিচার কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
টেনেসি কর্তৃপক্ষ মেটার কাছে আর্থিক জরিমানা এবং ইনস্টাগ্রামের কিছু ফিচারে পরিবর্তন আনার নির্দেশ চেয়েছে। আদালত মেটাকে আইন ভঙ্গকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করলে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিশোরদের নিরাপদ রাখতে ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবকদের জন্যও সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সীমা ঠিক করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মেটার দাবি, ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীরা যে কনটেন্ট পোস্ট করেন, তার জন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আইনের সুরক্ষা রয়েছে বলেও দাবি করেছে মেটা।
টেনেসির মামলাটি মেটার বিরুদ্ধে কোনো অঙ্গরাজ্যের করা দ্বিতীয় মামলার বিচার। এর আগে চলতি বছর নিউ মেক্সিকোতে মেটার বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় জুরি রায় দেয়। সেখানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, ব্যক্তি ও স্কুল কর্তৃপক্ষের করা হাজারো মামলা চলমান রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এসব মামলার মধ্যে আরো কয়েকটির বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।





