kalerkantho

টিকে থাকার লড়াইয়ে জেট এয়ারওয়েজ

নতুন করে ঢাকাসহ ১৩ রুটে ফ্লাইট বন্ধ

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিকে থাকার লড়াইয়ে জেট এয়ারওয়েজ

ঋণের দায়ে জর্জরিত জেট এয়ারওয়েজে নতুন করে আর বিনিয়োগ করতে রাজি নয় কৌশলগত অংশীদার ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজ। এরই মধ্যে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে (এসবিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে তাদের মালিকানায় থাকা ২৪ শতাংশ অংশীদারি কিনে নেওয়ার জন্য। স্থানীয় পত্রিকা ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি এসবিআইয়ের প্রধান রাজনিশ কুমারের সঙ্গে এক বৈঠকে ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের সিইও টনি ডগলাস খুব কম দামে অংশীদারি কেনার প্রস্তাব দেন।

সূত্র আরো জানায়, জেট এয়ারওয়েজ এইচএসবিসি দুবাই থেকে এক হাজার কোটি রুপির যে ঋণ নিয়েছে তার গ্যারান্টার দায়িত্বও ইত্তেহাদ নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে এসবিআইকে দিতে চায়। ওই ঋণের প্রথম কিস্তি এরই মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে জেট এয়ারওয়েজ। এ ছাড়া জেট প্রিভিলেজে থাকা ৫০.১ শতাংশ অংশীদারি বিক্রিরও প্রস্তাব দিয়েছে ইত্তেহাদ। যার মূল্য হবে এক হাজার কোটি রুপি। গুঞ্জন রয়েছে, ইত্তেহাদ তাদের শেয়ার অনেক কম দামেই ছেড়ে দিতে চায়। ২০১৩ সালে ইত্তেহাদ এ শেয়ার কিনেছিল দুই হাজার ৬০ কোটি রুপি দিয়ে। বর্তমানে জেট এয়ারওয়েজের প্রতি শেয়ারের দাম ২১৮.৫০ রুপিতে ইত্তেহাদের ২৪ শতাংশ অংশীদারির মূল্য দাঁড়ায় ৪০০ কোটি রুপি। এ শেয়ার প্রতিটি মাত্র ১৫০ রুপিতে বিক্রি করতে চায় ইত্তেহাদ।

এর ফলে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা জেট এয়ারওয়েজের জন্য ইত্তেহাদের ছেড়ে যাওয়ার এ পরিকল্পনা আরো বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। ঋণের দায়ে জর্জরিত জেট এয়ারওয়েজ ঢাকাসহ ১৩টি আন্তর্জাতিক রুটে নতুন করে ফ্লাইট বন্ধ করেছে। আপাতত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইটগুলো বন্ধ রাখা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেট এয়ারওয়েজ। যেসব সংস্থার কাছ থেকে বিমান ভাড়া করে জেট, তাদের পাওনা মেটানোর জন্যই নতুন করে আরো বিমান ওড়ানো বন্ধ করতে হচ্ছে নরেশ গয়ালের এই সংস্থাকে। পাশাপাশি দিল্লি এবং মুম্বাই থেকে যাতায়াত করা অনেক ফ্লাইটের সংখ্যাও কমানো হয়। এ পর্যন্ত ৬০টির বেশি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জেট এয়ারওয়েজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন রুটে তাদের ১১৯টি বিমান চলাচল করে। ভাড়া না মেটানোর জন্য এর মধ্যে ৫৪টি ইতিমধ্যে বসে গেছে। এর আগে পুনে-সিঙ্গাপুর, পুনে-আবুধাবি, মুম্বাই-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছিল জেট। এ ছাড়া দিল্লি থেকে আবুধাবি, দাম্মাম, ঢাকা, হংকং, রিয়াদ এবং বেঙ্গালুরু থেকে সিঙ্গাপুর রুটের সব ফ্লাইট আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেট এয়ারওয়েজের দিল্লি এবং মুম্বাই থেকে কাঠমাণ্ডু, ব্যাংকক, দোহা, কুয়েত, সিঙ্গাপুর রুটের ফ্লাইটের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়। যত দিন এগোচ্ছে জেটের বিপাক আরো বাড়ছে।

এদিকে অনেক পাইলট ও ইঞ্জিনিয়ার কাজ না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে বকেয়া বেতন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিটিয়ে দেওয়ার জন্য এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখেন জেট এয়ারওয়েজের পাইলটরা। আর্থিক সংকটে পড়া জেট এয়ারওয়েজের পাইলট ও ইঞ্জিনিয়াররা বেতন পাচ্ছেন না তিন মাস ধরে। ৩১ মার্চের মধ্যে তাঁদের বেতন না মেটালে ১ এপ্রিল থেকে তাঁরা বিমান চালাবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন কয়েক দিন আগে। তাঁদের ধারণা ছিল, এয়ারলাইনসটি বন্ধ হলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন কর্মচারীরা। যার জেরে বিমানের সংখ্যা কমবে। যাত্রীরাও পড়বে চরম দুর্ভোগে। কয়েকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বকেয়া মেটানো হয়নি তাঁদের। এর পরও যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা ভেবে পাইলটরা বিমান চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, জেটের অন্যতম অংশীদার ইত্তেহাদ আগেই জানিয়েছে, যত দিন সংস্থার পরিচালনার দায়িত্ব নরেশ গয়ালের হাতে থাকবে তত দিন অর্থ ঢালবে না তারাও। ফলে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ দেউলিয়ার পথে।

জানা যায়, বিমানটি এবং তার মূল স্টেকহোল্ডাররা ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার পক্ষে কাজ করছে। যাতে এটি নিশ্চিত করা যায় যে বিমানটি আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল হবে। আর্থিক ঋণের জন্য এয়ারলাইনসটির অভিযোগ, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল রুপি এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের মারাত্মক প্রতিযোগিতার ফলে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যম জানায়, ২৬ বছরের পুরনো বিমান সংস্থাটি সংরক্ষণের জন্য গয়াল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। সূত্র : টাইমস নিউ, এনডিটিভি।

মন্তব্য