kalerkantho

উদ্যোক্তা

ডিজিটাল বুটিকের কারিগর

শরিফ রনি   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিজিটাল বুটিকের কারিগর

সুলতানা সোনিয়া, সিইও, সুইসুতা বুটিক হাউস

দেশে অনেকগুলো সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। ব্যবসার সনাতনি মাধ্যমের বদলে অনেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত সফলতা পাচ্ছেন। দেশে প্রায় হাজারবিশেক উদ্যোক্তা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছেন আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থান।

সুইসুতা বুটিক হাউসের সিইও সুলতানা সোনিয়া পণ্য বিক্রির পাশাপাশি পাইকারিভাবে পণ্য কিনছেন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে। তাঁর মতে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে যেকোনো ব্যবসায় পাঁচ বছরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

শুরুর দিককার পথচলা নিয়ে সোনিয়া বলেন, ‘মাস্টার্সে পড়ার সময় আমি একটা চাকরিতে ঢুকি। কিন্তু চাকরি কখনোই ভালো লাগত না। আসলে ভেতর থেকে উৎসাহ আসত না। সব সময় মনে হতো নিজে কিছু করি। নিজের মতো কাজ করতে ইচ্ছা করত। নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ চাইতাম। আমি নিজে ডিজাইন করে পোশাক পরি। কাজটা করে খুব আনন্দও পাই। প্রতিষ্ঠান গড়ার ভাবনাটা আসে ওখান থেকেই।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে বাবার পরামর্শে রামপুরার মহানগর প্রজেক্টে একটা দোকান নিই ছয় হাজার টাকা ভাড়ায়। বাবা কিছু টাকা দিলেন আর আমার জমানো টাকা মিলিয়ে মোট ২০ হাজার টাকায় দোকানটা শুরু করি। পাশাপাশি চাকরিটাও চালিয়ে যাই। বর্তমানে মূলধন প্রায় ১৫ লাখ টাকা।’

প্রতিষ্ঠানটি আরো গতিশীল হয় বিয়ের পর। সংসার জীবনে স্বামীর সহযোগিতায় ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। তিনি যশোরে নিয়ে যান হ্যান্ডি ক্রাফট থ্রিপিসগুলো দেখাতে। তাঁর সঙ্গে সিলেটে গিয়ে মণিপুরি শাড়িগুলো সম্পর্কে ধারণা পান। আরো নানা জায়গায় যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ একটু থামতে হয় যখন সন্তানের মা হন। চাকরি, ব্যবসা, সংসার আর সন্তান সব মিলিয়ে আর কুলিয়ে উঠতে পারেন না। সিদ্ধান্ত নিলেন চাকরি অথবা ব্যবসা এর কোনো একটি বাদ দিতে হবে। ভাবতে ভাবতে দোকানটা ছেড়ে দিলেন।

কিন্তু সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখলেন। এরপর স্বামীর পরামর্শে ফেসবুকে একটি পেজ খুলে পণ্য বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে অফিসে বসে দু-চারটা অর্ডার সংগ্রহ করতেন। দুই বছর পর দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে গেল। সুইসুতা পেজে লাইক দাঁড়ায় এক লাখ। যাঁরা নিয়মিত পণ্য কেনেন। ২০১৮ সালে চাকরিটাও ছেড়ে দেন। বর্তমানে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে আয় করছেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আটজন উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের জানিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ বিপণন কৌশলগুলো। তাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করছেন।

সোনিয়া জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে দিনে দিনে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এখানে মানুষের আস্থা বেড়েছে। এখানে খুব সহজে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যায়। ফলে দ্রুত ব্যাবসায়িক উন্নতি লাভ করা যায়।

 

 

মন্তব্য