kalerkantho

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা বাড়ল ছয় গুণ

♦ দিনে বাড়তি আয় কোটি টাকা
♦ সাত নটিক্যাল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইলে উন্নীত

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা বাড়ল ছয় গুণ

দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জলসীমা ছয় গুণ বাড়ানো হয়েছে। বহির্নোঙরে সাগরের এই সীমানা সীতাকুণ্ড থেকে মহেশখালীর সোনাদিয়া এবং কুতুবদিয়া পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জাহাজ ভেড়ার সুবিধার্থে সাগরের ওই অংশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

সীমানা বাড়ানোর বন্দরের প্রস্তাবটি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং (অনুমোদন) শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ২৪ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি বা এসআরও জারি করা হয়েছে।

কয়েক বছর ধরে পণ্যবাহী জাহাজ আসা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাপ সামাল দিতে বন্দরের সীমানা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে মহেশখালীর মাতারবাড়ী ঘিরে এলএনজি টার্মিনাল, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) নির্মিতব্য মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর এবং কুতুবদিয়ার গভীর সাগর ঘিরে জাহাজ আসছিল। আর আনোয়ারা এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধার্থে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সীমানা বাড়ানো হয়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ঘিরে সরকারের যে মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে সেটি লক্ষ রেখেই বন্দরের জলসীমা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দিকে আমরা সীতাকুণ্ড, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া ঘিরে তিনটি এলাকা ভাগ করে জলসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলাম; কিন্তু ভবিষ্যৎ চিন্তা মাথায় নিয়ে পৃথক এলাকার চিন্তা বাদ দিয়ে পতেঙ্গা বহির্নোঙর থেকে সরাসরি মহেশখালী হয়ে সীতাকুণ্ড সাগর এলাকা পর্যন্ত জলসীমা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ সীমানা সাড়ে সাত নটিক্যাল মাইল থেকে বেড়ে ৫০ নটিক্যাল মাইলে উন্নীত হলো।

এসআরও জারির পরদিন থেকেই সেটি কার্যকর হয়েছে উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলছেন, এখন থেকেই এসব এলাকায় নোঙর করা জাহাজ থেকে মাসুল পাচ্ছি। এখন থেকেই দিনে কোটি টাকার মতো বাড়তি রাজস্ব বন্দর তহবিলে যোগ হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সেই রাজস্ব আরো বাড়বে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জলসীমা বাড়ানোর উদ্যোগে দারুণ উচ্ছ্বসিত। তবে বাড়তি সীমানার নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের কথা বলছেন। ক্রাউন নেভিগেশন কম্পানি লিমিটেডের ডিএমডি সাহেদ সারোয়ার বলেন, নিঃসন্দেহে এটা বিশাল অর্জন। সেই অর্জন ধরে রাখতে দ্রুত কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে নোঙর করা জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত আর লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো। পাইলটের সংখ্যা বাড়ানো, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া জাহাজ ক্যাপ্টেনকে দ্রুত উপকূলে নিয়ে আসা এবং নজরদারি বাড়ানো অন্যতম।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমানা আগে ছিল বহির্নোঙরের পাঁচ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। জাহাজ আসা বেড়ে যাওয়ায় ২০১১ সালে সেটি সাত নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এখন সেখানে তিনটি অ্যাংকরেজ বা নোঙর এলাকা আছে। আর চট্টগ্রাম বন্দর বলতে জেটি ছাড়াও পতেঙ্গা উপকূল থেকে সাত নটিক্যাল মাইল বোঝানো হতো। এখন থেকে পতেঙ্গা, সীতাকুণ্ড থেকে সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া পর্যন্ত বন্দর সীমানা বোঝানো হবে।

বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে বিদেশ থেকে আসা পণ্যবাহী কনটেইনার, ট্যাংকার ও খোলা জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ঢুকতে পারে না। সাড়ে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজই শুধু জেটিতে ঢোকার অনুমতি পায়। সবচেয়ে বড় জাহাজগুলো কুতুবদিয়া গভীর সাগরে নোঙর করে এর চেয়ে ছোট জাহাজগুলো ভিড়ে বহির্নোঙরে তিনটি অ্যাংকরেজে। যেখানে সর্বমোট ৯৩টি জাহাজ ভিড়তে পারে। কিন্তু জাহাজের তুলনায় অ্যাংকরেজ কম হওয়ায় প্রায় সময়ই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ দুর্ঘটনা ঘটছে।

বাড়তি সীমানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কমিটির সদস্যসচিব ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, সীমানা বাড়ানোই বড় কথা নয় সীমানার মধ্যে থাকা জাহাজ-ক্যাপ্টেনের নিরাপত্তা এবং ইমার্জেন্সি সার্ভিস নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে কমিটি। আপাতত বর্তমান জনবল দিয়েই কাজ চলবে। অনুমোদনের পর নতুনভাবে কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জাহাজ গতিবিধি তদারকির ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পরিধিও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি।

মন্তব্য