kalerkantho

আইএলওর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ

অর্ধেক শিল্প শ্রমিক বাড়তি খাটে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্ধেক শিল্প শ্রমিক বাড়তি খাটে

বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং বা শিল্প উৎপাদন খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ শ্রমিকই সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করে। একই চিত্র কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার ও ভিয়তনামে দেখা গেলেও শিল্পে বাড়তি কাজের দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়া।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিবহন, স্টোরেজ ও যোগাযোগ খাতেও ৩৫ শতাংশ শ্রমিককে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়। এ  দিক থেকে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে মঙ্গোলিয়া। গত বুধবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক: ট্রেন্ডস ২০১৯’ প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বেশ কিছু দেশেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্থায়ী কর্ম রয়েছে। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানে ৭০ থেকে ৭০ শতাংশ মজুরি বা বেতন এ অস্থায়ী কর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। অস্থায়ী কর্ম সবচেয়ে বেশি নির্মাণ খাতে। এ ছাড়া শিল্প খাত থেকে শুরু করে পরিবহন, স্টোরেজ এবং যোগাযোগসহ কিছু সেবা খাতে বিপুল পরিমাণে রয়েছে অনিয়মিত চাকরি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি খাতেও অস্থায়ী কর্ম রয়েছে।

বিশ্বে বেকারত্বের হার কমে এলেও সে পরিমাণে উন্নতি ঘটেনি কাজের মানে। ফলে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে নিম্নমানের কাজ। এমন দাবি করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনো লাখ লাখ শ্রমিককে নিম্নমানের কাজ করতে হয়।  ২০১৮ সালেও কাজে থাকা ৩৩০ কোটি মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ছিল না, বেঁচে থাকার জন্য পণ্যাদি ক্রয় এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। বিশ্বজুড়ে কর্ম বাড়লেও তার প্রতিফলন ঘটেনি কাজের মানে। ফলে বর্তমানে কর্মসংস্থানের অগ্রগতি যে হারে হচ্ছে তাতে অনেক দেশই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৮ নম্বর লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না। আইএলওর নীতিবিষয়ক উপ-মহাপরিচালক ডেবোরাহ গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘এসডিজিতে শুধু কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়নি, সেই সঙ্গে কাজের মানের কথাও বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সমান অধিকার ও মানসম্মত কাজ এ দুটি কথা এসডিজিতে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে।’

আইএলও গবেষণা পরিচালক ড্যামিয়ান গ্রিমশো বলেন, কর্মসংস্থান সব সময় সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা দেয় না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চাকরি পাওয়ার পরও এখন ৭০০ মিলিয়ন মানুষ অতিদারিদ্র বা দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে।

প্রতিবেদনে শ্রম অংশগ্রহণে লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উন্নতির অভাব রয়েছে বলে জানানো হয়। বলা হয়, বর্তমানে শ্রমশক্তিতে আছে ৪৮ শতাংশ নারী, এর বিপরীতে পুরুষ রয়েছে ৭৫ শতাংশ।

উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, ২৫ বছরের নিচে তরুণদের এখনো প্রতি পাঁচজনের একজন বেকার। তাদের কর্মে আনতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বলা হয়, এ অঞ্চলে গত কয়েক দশকে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি খাতে কর্মসংস্থান কমে আসায় দারিদ্র্যের হার ব্যাপকভাবে কমেছে।

বাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি পরিচালক টুমো পুটিয়ানে বলেন,  এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কর্মসংস্থান নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তার অন্যতম হচ্ছে শ্রম নিরাপত্তা, শিশুশ্রম এবং নারী শ্রমিকদের সমান ও ন্যায্য মজুরি। যদি বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, তবে অবশ্যই সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কর্ম ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রচেষ্টা আরো বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে আইএলওসহ অংশীদারদের নিয়ে শ্রম ক্ষেত্রে অনেক সংস্কার করেছে।

মন্তব্য