kalerkantho


উদ্যোক্তা

ভালোবাসার ফুলে ভাগ্য ফিরল

এস এম শাহাদাত, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ভালোবাসার ফুলে ভাগ্য ফিরল

শুধু ভালোবাসা দিবসে নয় পুরো বছর জুড়েই রয়েছে ফুলের কদর। তাই ফুল চাষ করে ভাগ্য বদলের গল্পটা রূপগঞ্জের নাঈম ভূঁইয়ার। দীর্ঘ সাত বছর অন্যের নার্সারিতে কাজ করে একসময় সিদ্ধান্ত নিলেন নিজে উদ্যোক্তা হবেন। এরপর ২০০৪ সালে দেড় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ফুল চাষ শুরু করেন।

বর্তমানে তিনি বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করছেন। মাসুমাবাদ এলাকায় কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন ৪০ জন নারীর। যাঁরা ফুল চাষ ও বিক্রির জন্য মালা তৈরি করেন। তাঁর ভাই সুমন ফুল বিক্রির দায়িত্ব পালন করছেন। সংসারে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছে। তাঁদের লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহ করে পাঁচতলা বাড়ি বানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার জমি কিনেছেন। তবে এই সাফল্য পেতে তাঁকে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। একাগ্রচিত্তে কাজে লেগে থাকতে হয়েছে।

তিনি জানান, ফুল চাষে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাননি কখনো। দিঘীরপাড় এলাকার সাধন মণ্ডলের ফুলের বাগান থেকে যতটা সম্ভব শিখেছেন। ওখান থেকেই নিজে ফুল ব্যবসায় উৎসাহী হন। ২০০৪ সালে তিনি চার বিঘা জমিতে কাঠবেলি ফুলের চারা রোপণ করেন। শুরুতে চারটি জাতের ফুল চাষ করেন। কাঠবেলি, চেরি, গাঁদা, আলমেন্দা। এর মধ্যে সবচেয়ে কম পুঁজিতে বেশি লাভ হয় কাঠবেলি ফুল চাষে। এ ফুলের চারা একবার রোপণ করলে কমপক্ষে ২০ বছর ফুল ধরে। আলমেন্দা ও কাঠবেলি ফুলগাছ একবার রোপণ করলে বছরের পৌষ ও মাঘ মাস ছাড়া সারা বছর ফুল হয়। মাঝেমধ্যে গাছের যত্ন নিলে ভালো ফলন হয়। চারা রোপণের এক বছর পরে ফুল আসে। গাছ যত বড় হয় ফুল তত বেশি হয়। গাছের আগাছা পরিষ্কার রাখা, পানি দেওয়া, সার দেওয়াসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়।

এ ছাড়া চেরি ও গাঁদার চারা প্রতিবছর নতুন করে রোপণ করতে হয়। আশ্বিন মাসে দো-আঁশ মাটিতে চাষ দিতে হয়। এরপর জৈবসার দিয়ে কয়েক দিন পর জমি কেল করে (বিট) করে চারা রোপণ করতে হয়। দুই মাস পরেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এভাবে চৈত্র মাস পর্যন্ত চার মাস চেরি ও গাঁদা ফুল পাওয়া যায়।

নাঈম ভূঁইয়া নিজের ও লিজসহ ১৫ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করছেন। ফুল বাজারজাতের জন্য শাহবাগ ও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে ফুলের দোকান নিয়েছেন। ৪০ জন মহিলা শ্রমিক রয়েছেন, যাঁরা ক্ষেত থেকে ফুল তুলে নিয়ে মালা তৈরি করেন।

তিনি জানান, তাঁর ফুল ঢাকার শাহবাগ ও স্টাফ কোয়ার্টারের দোকানে বিক্রি হয়। বর্তমানে তাঁর ফুলের বাগান আছে ৯টি। কাঠবেলি ও আলমেন্দা চারা কিনতে অন্য নার্সারিতে যেতে হয় না। তিনি নিজেই এসব গাছের কলম করে চারা তৈরি করেন। এ ছাড়া গাঁদা ফুল ও চেরি ফুলের বীজও নিজের ক্ষেতে তৈরি করেন।



মন্তব্য