kalerkantho


বিজিএমইএতে সমঝোতার নেতৃত্ব চায় না ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বিজিএমইএতে সমঝোতার নেতৃত্ব চায় না ব্যবসায়ীরা

বিজিএমইএ ভবন

নির্বাচনের মাধ্যমে বিজিএমইএর আগামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে স্বাধীনতা পরিষদ নামের পোশাক খাতের সদস্যদের নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটি মনে করে অতীতে নির্বাচন না হওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক খাতের এ শীর্ষ সংগঠনটিতে সদস্যদের গুরুত্ব কমে গেছে। ফলে অনেক সদস্যই সংগঠনটিতে এসে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পান না। আর এটা নির্বাচন না হওয়ারই কুফল।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা পরিষদের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, নির্বাচনের পরিবর্তে সমঝোতার কমিটি গঠন হলে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা, বঞ্চনা ও সংগঠনের কিছু অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন স্বাধীনতা পরিষদের সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কয়েকটি কারখানার মালিক উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন ঘিরে শিগগিরই সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করারও ঘোষণা দেন জাহাঙ্গীর আলম।

বিজিএমইএর নির্বাচনে সদস্যরা ‘সমন্বয় পরিষদ’ ও ‘ফোরাম’ নামে দুটি প্যানেলে ভাগ হয়ে অতীতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছিলেন। তবে ২০১৫ সালে উভয় প্যানেল সমঝোতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব ঠিক করে। ফলে সাধারণ সদস্যরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। দুই বছরের জন্য কমিটি ঠিক হলেও সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি এরই মধ্যে সাড়ে ৩ বছরের বেশি সময় পার করেছে। তবে সম্প্রতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের বদলে ফের সমঝোতার কমিটি গঠন হয় কি না—তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা পরিষদের পক্ষ থেকে গতকাল ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, সংগঠনের প্রায় ২০ শতাংশ সদস্য রয়েছেন, যাঁদের কোনো কারখানা নেই। নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব না আসায়, অনেক সদস্যই বিজিএমইএর নেতাদের কাছে গুরুত্ব পান না। অনেক কারখানা মালিক সমস্যায় থাকলেও তা বর্তমান নেতৃত্ব সঠিকভাবে তুলে ধরছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিজের ঘরে চাল নেই, বলব সব ভালো আছি’। কারখানার সংস্কারে সামান্য সমস্যার কারণেও অনেক সময় অর্ডার বাতিলের চাপ (অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে ইঙ্গিত করে) দেওয়া হয়। ফলে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বিজিএমইএতে ইউডি (ইউটিলিটি ডিক্লারেশন বা কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতার ঘোষণা) নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে হয়। এ সময় তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সংগঠন বিজিএমইএ। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিজিএমইএর মতো আয় অন্য কোনো সংগঠনের নেই। ১০০ কোটি টাকা আয় হয়, অথচ খরচ ১০ কোটি টাকাও না। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি ভয়ভীতির ইস্যুটিও সামনে আনেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওহি কোথা থেকে নাজিল হয়, আমরা জানি না। তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বলব, কোনো ওহি মানি না।



মন্তব্য