kalerkantho


লেয়ার খামারে ১৫ লাখ টাকা লোকসান

টার্কিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন রহমত আলী

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



টার্কিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন রহমত আলী

ময়মনসিংহের ভালুকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টার্কি মুরগির পালন। আগে লেয়ার মুরগিতে লোকসানের পর এখন টার্কিতে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। এ ছাড়া অনেকেই শখের বশে, আবার অনেকেই পতিত জমি, বাসা-বাড়ির আঙিনা ও বাড়ির ছাদে শেড তৈরি করে গড়ে তুলছেন টার্কি মুরগির ফার্ম। ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির চেয়ে টার্কি মুরগি পালন লাভজনক। ফলে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় টার্কি মুরগির খামার করার দিকে ঝুঁকছে অনেকেই। এরই মধ্যে উপজেলার জামিরদিয়া, বাটাজোর, কাচিনা, সিডস্টোরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে টার্কি মুরগির ছোট-বড় খামার।

সংশ্লিষ্ট চাষিরা জানান, টার্কি মুরগির খাবার খরচ লেয়ার বা ব্রয়লার মুরগির চেয়ে অনেক কম। পতিত জমিতে উৎপন্ন ঘাসই ওদের প্রধান খাদ্য। ছয় মাসে একটি পুরুষ টার্কি পাঁচ থেকে ছয় কেজি এবং স্ত্রী টার্কির তিন থেকে চার কেজি ওজনের হয়। টার্কি মুরগির মাংস সুস্বাদু। প্রতি কেজি টার্কি মুরগি বিক্রি মূল্য আড়াই থেকে তিন শ টাকা এবং একজোড়া টার্কির বাচ্চার মূল্য ১৪ থেকে ১৫ শ টাকা। প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় দেড় থেকে ২০০ টাকায়। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় টার্কি ফার্ম করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। কথা হলো টার্কি মুরগির চাষি মো. রহমত আলীর সঙ্গে। রহমত আলী জানান, তাঁর বাড়ি উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামে। দেড়-দুই বছর আগে তিন হাজার লেয়ার মুরগি নিয়ে একটি খামার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। প্রথম দিকে কিছুটা লাভের মুখ দেখলেও পরে মুরগির খাদ্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তাঁর ওই খামারে লোকসান হতে থাকে এবং মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে ১৫ লাখ টাকা লোকসান হয়। ফলে খামারটি বন্ধ করে দেন তিনি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে টার্কি মুরগির কথা জানতে পারেন এবং গত বছরের শেষ দিকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ২০টি মুরগি ও ৩০টি বাচ্চা নিয়ে তাঁর পুরনো শেডে টার্কি মুরগি পালন শুরু করেন। শুরুর ৮ থেকে ৯ মাসেই তাঁর ওই ফার্ম থেকে প্রায় চার লাখ টাকার ডিম ও বাচ্চা বিক্রি হয়। এ ছাড়া বর্তমানে তাঁর ওই খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে বিক্রির উপযোগী প্রায় ৮-৯ শ মুরগি রয়েছে। তা ছাড়া, ঘাস কাটার মেশিন ও ডিম ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটরও রয়েছে তাঁর খামারে। ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন, পালন ও ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে ওই খামারে। ইনকিউবেটর মাধ্যমে ডিম ফোটানো ছাড়াও বর্তমানে দেশি মুরগির মাধ্যমেও টার্কির ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানান। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হেলাল আহমেদ জানান, লেয়ার মুরগির চেয়ে টার্কি মুরগির খাবার খরচ অনেক কম। এরা প্রাকৃতিক ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে। জমি থেকে কেটে আনা ঘাসও এরা খায়।

তিনি বলেন, দেশি মুরগির চেয়ে এদের গ্রোথ অনেক বেশি। ভালুকায় বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষিপ্তভাবে টার্কি মুরগি পালন শুরু হয়েছে। অনেকেই শখের বশে এই মুরগি লালন-পালন করছে। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় ভালুকায় টার্কি মুরগি চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে টার্কি মুরগি চাষের জন্য খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।   



মন্তব্য