kalerkantho


অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ

২৭ সেবা মিলবে এক স্থানে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



২৭ সেবা মিলবে এক স্থানে

সারা দেশে প্রস্তাবিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য ২৭ বিভাগের ১২৩ ধরনের সেবা একই ছাদের নিচে দেওয়া শুরু হবে আগামী বছরের মার্চ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) অনলাইনে এসব সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোনেম বিজনেস ভবনের নিচতলায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে মিলবে এসব সেবা। গতকাল বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস বিষয়ক এক সেমিনারে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বেজার নির্বাহী সদস্য হারুনুর রশিদ স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বাস্তবায়নবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল হাবিবুর রহমান খান, জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি ইয়োসিবুমি বিতো, জেবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সালাউদ্দিন কাশেম খান, জেট্রোর আবাসিক প্রতিনিধি দাইসুকে আরাইসহ অন্যরা।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এখানে উদ্যোক্তাদের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ পানিসহ সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে একই ছাদের নিচে সব ধরনের সেবা পাবে ব্যবসায়ীরা। এতে করে উদ্যোক্তাদের আর হয়রানির শিকার হতে হবে না।

বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু বলেন, বাংলাদেশ এখন জনসংখ্যার বোনাসকাল ভোগ করছে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখন কর্মক্ষম। এদের দক্ষ করে তোলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, বেজার সব কাজের সেরা কাজ হবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। তিনি বলেন, বেজা তার অন্যান্য সেবা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তা বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল হাবিবুর রহমান খান বলেন, সারা দেশে এখন আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) আছে। এসব ইপিজেডের জন্য এখন কোনো ওয়ান স্টপ সার্ভিস নেই। তার পরও দেশের রপ্তানিতে বড় অবদান রাখছে বেপজা। তবে অদূর ভবিষ্যতে সেবা ও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় স্থান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি ইয়োসিবুমি বিতো বলেন, জাইকা বেজাকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসে সহযোগিতা করতে পেরে আনন্দিত। তবে প্রথম দিকে পরিকল্পনা ছিল এ সেবা শুধু জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেওয়া হবে। পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুধু জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সেবা দেওয়া হবে।

পবন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য সীমিত পরিসরে ১১ বিভাগের সেবা দিচ্ছি। যার মধ্যে রয়েছে ভূমির ইজারা, প্রকল্পের অনুমোদন, ভিসা সুপারিশ, কাজের অনুমতি, আমদানি অনুমতি, রপ্তানির অনুমতি, ভিসা সহযোগিতা, স্থানীয় ক্রয়-বিক্রয় নমুনা আমদানি এবং রপ্তানি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো পাঁচ বিভাগের সেবা দেওয়া হবে ব্যবসায়ীদের। আর আগামী বছরের মার্চে আরো ১১ বিভাগের সব মিলিয়ে ২৭ বিভাগের ১২৩ ধরনের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এতে করে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে গতি আসবে। তিনি বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠান শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত না হলে উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা মেটাতে পারে না। আমরা (বেজা) উদ্যোক্তাদের দুর্নীতিমুক্ত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

সেমিনারে জানানো হয়, বেজা এ বছর ওএএস সেবা চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩১টি প্রকল্প অনুমোদন, ১৭৬টি আমদানি পারমিট, ৪৬৯টি রপ্তানি পারমিট, ১১৩টি ভিসা সহযোগিতা এবং ৩টি ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনে সহযোগিতা করেছে।



মন্তব্য