kalerkantho


বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৮৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৮৫ কোটি ডলার

সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতির আকার অনেক বেড়েছে। গত জুলাই-আগস্ট দুই মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে এই ঘাটতির সঙ্গে আরো ১৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার যোগ হয়ে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য সারণি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একসঙ্গে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে গতি আসা এবং আমদানি প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী হওয়ার পরও বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের বাণিজ্য ঘাটতির তুলনায় চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২০ কোটি দুই লাখ ডলার।

এদিকে ওই এক মাসের ব্যবধানে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ১২৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ঘাটতি যোগ হয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অবশ্য গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চলতি হিসাবে ১৮১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনে দেশকে কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না। ঘাটতি থাকলে তা পূরণে সরকারকে ঋণ নিতে হয়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর চলতি হিসাবের ঘাটতি থাকা ইতিবাচক নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ করছে সরকার। এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির কারণে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে আমদানি প্রবৃদ্ধি বেশি থাকায় চলতি অর্থবছরে আমদানি প্রবৃদ্ধি কম দেখাচ্ছে। কিন্তু টাকার অঙ্কে ঘাটতির আকার অনেক বড়। তবে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে কিছুটা গতি আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি থেকে দেশ আয় করেছে ৯৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রবৃদ্ধি ১৪.০১ শতাংশ)। একই সময়ে আমদানির পেছনে দেশকে ব্যয় করতে হয়েছে এক হাজার ৩৬০ কোটি ডলার প্রায় (প্রবৃদ্ধি ১১.৪৮ শতাংশ)। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ৩৮৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময় ঘাটতি ছিল ৩৬৫ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) অবশ্য এরই মধ্যে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসের রপ্তানি আয়ের তথ্য দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে,  অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবরে) এক হাজার ৩৬৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮.৬৫ শতাংশ বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরের পুরো সময়ে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৪৩ শতাংশ এবং আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫.২৩ শতাংশ। ওই অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে এক হাজার ৮২৫ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল।

এদিকে আলোচ্য সময়ে সেবা খাতে বেতন-ভাতা, বিদেশে চিকিৎসা ও শিক্ষা ফি পরিশোধ বাবদ দেশ থেকে ২৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিদেশে গেছে। বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে ১৫৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ডলার, যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল (ঘাটতি) ১০৫ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই, নিট) এসেছে ৭২ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৭.৯৫ শতাংশ বেশি। এফডিআই বাড়লেও দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে কমেছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে শেয়ারবাজারে মাত্র দুই কোটি ৯০ লাখ ডলারের পোর্টফোলিও বিনিয়োগ এসেছে, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর মধ্যে অবশ্য অর্থবছরের প্রথম চার মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৫১০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে প্রবাসীরা, যা গত বছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।



মন্তব্য