kalerkantho


নতুন পণ্য ও মূল্যছাড়ে আসবাব মেলা শুরু

গত অর্থবছরে ছয় কোটি ৩১ লাখ ডলার বা ৫৫০ কোটি টাকার রপ্তানি আয় হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



নতুন পণ্য ও মূল্যছাড়ে আসবাব মেলা শুরু

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আসবাব মেলার উদ্বোধন শেষে স্টলগুলোতে পণ্য দেখতে আসে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের আসবাবপত্রশিল্পের ক্রমবিকাশ ঘটছে। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশে উৎপাদিত আসবাব বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১৫তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু। বাংলাদেশ শিল্প মালিক সমিতি এবং ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার পাঁচ দিনের এই মেলা যৌথভাবে আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা বলেন, এই খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার বিশ্ববাজার রয়েছে। এর মধ্যে চীন একাই প্রায় ৫২ শতাংশ বাজার দখল করে আছে। এ ছাড়া চীন উচ্চমূল্যে সংযোজনী পণ্যে নজর বেশি দেওয়ায় বাংলাদেশের এই বাজারে অবস্থান তৈরি করা সহজ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংযোগ শিল্পের অভাবে এই খাতের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে না। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে প্রায় ছয় কোটি ৩১ লাখ ডলার বা সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার রপ্তানি আয় হয়েছে। তবে সরকারের ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা উদ্যোক্তাদের আশান্বিত করেছে।

বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম আকতারুজ্জামান, বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব ইলিয়াস সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক শেখ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক এ করিম মজুমদার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুভাশীষ বসু বলেন, বাংলাদেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শিল্প হচ্ছে ফার্নিচার শিল্প। এই খাতটিতে সব ধরনের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ইন্টেরিয়র ও হোম ফার্নিসার্সের চাহিদা বাড়ছে এবং সেগুলো এলিগেন্স অ্যান্ড ক্লাস।

তিনি আরো বলেন, রেসিডেনশিয়াল ও কমার্শিয়াল সেক্টরের ফার্নিচারের নতুন বাজার সৃষ্টির জন্য ডাইমেনশন পরিবর্তন দরকার। সুপিরিয়র কমফোর্টের দিকে খেয়াল রেখে ফার্নিচার তৈরি করতে হবে। সরকার ফার্নিচারের কস্ট অব প্রডাক্ট কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে।

মেলা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। আইসিসিবির গুলনকশা ও পুষ্পগুচ্ছ হলে এবারের মেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪৭টি ফার্নিচার উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের ১৮২টি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলা উপলক্ষে আসা ক্রেতারা সব ফার্নিচারে পাবেন বিশেষ ছাড়।

উদ্বোধন শেষে ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় বিনা মূল্যে প্রবেশ করা যাবে। মেলায় হাতিল ফার্নিচার, পারটেক্স ফার্নিচার, ওমেগা ফার্নিচার, ব্রাদার্স ফার্নিচার, নাভানা ফার্নিচার, বেঙ্গল ফার্নিচার, উড আর্ট ফার্নিচার, হাইটেক ফার্নিচার এবং আকতার ফার্নিচারসহ দেশসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল রয়েছে।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, দেশের জনপ্রিয় আসবাব প্রতিষ্ঠানগুলো মেলা উপলক্ষে নতুন নতুন পণ্যের পসার জমিয়েছে। এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যচ্ছে উন্নতমানের নকশার বেড রুগ, ফার্নিচার, এ ছাড়া আকর্ষণীয় দামে বিক্রি করছে সোফা সেট, ডাইনিং টেবিল ও অন্যসব আসবাব।

আকতার ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধ আঁখি আকতার কালের কণ্ঠকে জানান, একটি কুইন বেড, দুটি সাইট টেবিল, দুই পাল্লার আলমারি এবং ড্রেসিং টেবিল ও খাটের মেট্রেসসহ মেলা উপলক্ষে বিক্রি করছেন মাত্র দুই লাখ সাত হাজার টাকায়।



মন্তব্য