kalerkantho


বিশ্ব মান দিবসের আলোচনা

ভেজাল রোধে বিএসটিআইয়ের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ভেজাল রোধে বিএসটিআইয়ের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ

বিএসটিআইয়ের আলোচনাসভায় শিল্পমন্ত্রীসহ অন্য অতিথিরা

বিদেশে বিএসটিআইয়ের মান সনদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য ১৪৪টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সম্প্রতি ভারত সরকার রপ্তানির উদ্দেশ্যে ২১টি পণ্যের জন্য বিএসটিআই থেকে প্রদত্ত সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিনা পরীক্ষায় ভারতের বাজারে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে

ভোজাল প্রতিরোধে বিএসটিআইকে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেছেন, যারা ভেজাল পণ্য বিক্রি করে তারা সমাজ ও দেশের শত্রু। তাদের মাফ নেই। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। এ বিষয়ে বিএসটিআইকে সারা বছর কাজ করতে হবে।

গতকাল বিশ্ব মান দিবস-২০১৮ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মান’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই মিলনায়তনে গতকাল এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক সরদার আবুল কালাম। বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মান) মো. সাজ্জাদুল বারী আগত অতিথিদের উদ্দেশে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিএসটিআইয়ের মান সনদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়, দেশের বাজারেও পণ্যের গুণগত মান বজায় থাকছে।’

মন্ত্রী বলে, সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সরকার ভেজাল রোধে বিএসটিআইকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। দিন দিন প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।   

মন্ত্রী আরো বলেন, গুণগত মানের পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএসটিআইকে পণ্য ও সেবার জাতীয় মান প্রণয়ন, নির্ধারণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিএসটিআই কর্মকর্তাদের পেশাদারির সাঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিএসটিআই জাতীয় পর্যায়ে একমাত্র মান নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ওপর গুণগত শিল্পায়ন এবং জনগণের জীবনের সুরক্ষার বিষয়টি নির্ভর করে। জনগণের দোরগোড়ায় বিএসটিআইয়ের সেবা পৌঁছে দিতে সরকার জেলাপর্যায়ে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। এর ফলে জনগণের মাঝে পণ্য ও সেবার মানবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশব্যাপী মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে বিএসটিআইয়ের তদারকি বাড়বে।

বিএসটিআইয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অর্জনের কথা তুলে ধরে সংস্থাটির মহাপরিচালক সরদার আবুল কালাম বলেন, বিএসটিআইয়ের কয়েকটি ল্যাবরেটরি এবং প্রডাক্ট সার্টিফিকেশন ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্টিফিকেশন দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে অ্যাক্রেডিটেশন লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে বিদেশে বিএসটিআইয়ের মান সনদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য ১৪৪টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সম্প্রতি ভারত সরকার রপ্তানির উদ্দেশ্যে ২১টি পণ্যের জন্য বিএসটিআই থেকে প্রদত্ত সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিনা পরীক্ষায় ভারতের বাজারে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। আরো ছয়টি পণ্যের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া চলমান।



মন্তব্য