kalerkantho


বে টার্মিনাল প্রকল্প ‘ফাস্ট ট্র্যাকে’ চান ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বে টার্মিনাল প্রকল্প ‘ফাস্ট ট্র্যাকে’ চান ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়ন রোডম্যাপ শীর্ষক সেমিনারে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবসায়ীরা

পণ্য ওঠানামার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে ‘বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প’ প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প (ফাস্ট ট্র্যাক) তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে বন্দরগুলো পরিচালনায় বন্দরবিষয়ক পৃথক মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় রাখা, বছরে একটি মন্ত্রিসভার মিটিং চট্টগ্রামে করা, পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান শাখা চট্টগ্রামে স্থাপন, ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামানোর নির্দেশনা বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আট লেইন, এক্সপ্রেসওয়ে বুলেট ট্রেন নির্মাণ এবং সীতাকুণ্ডে শিল্প-কারখানায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম চেম্বারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও চাহিদা বিষয়ক উন্নয়ন রোডম্যাপ শীর্ষক সেমিনারে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবসায়ীরা এই দাবি জানান। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক সেমিনার আয়োজন করছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটি। অঞ্চলভিত্তিক পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মতামত আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এই দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন।

আলোচনা শেষে ড. মসিউর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন ভাবনা, অনুভূতি ও চাহিদা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চিন্তাচেতনায় প্রভাব রাখবে। উন্নয়ন শুধু প্রবৃদ্ধিই বৃদ্ধি করে না, উন্নয়ন পরিবর্তনও সাধন করে থাকে। তাই আজ বাংলাদেশের সর্বস্তরে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামানোর নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনব উল্লেখ করে ড. মসিউর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ মোংলা ও পায়রা বন্দরকে অধিকতর কার্যকর করা, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ অবকাঠামো, শেয়ারবাজার, কাস্টমসের সক্ষমতা ও রাজস্ব কর ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক টিপু মুনশি বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্দর, পর্যটন এবং মত্স্য খাতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র থেকে মাত্র ৩০ শতাংশ মত্স্য আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে। শিপব্রেকিং এবং আরএমজি খাতেও এ অঞ্চলে সম্ভাবনা প্রচুর। বর্তমানে চীন থেকে তৈরি পোশাক খাতে অনেক কার্যাদেশ বাংলাদেশে আসছে। সেগুলো ধরে রাখতে সেই লোকবল ও নীতি পরিকল্পনা দরকার।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম মিরসরাই ও আনোয়ারায় ইকোনমিক জোনের কাজ দ্রুত শেষ করে দেশি-বিদেশি প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে বলে আশা করেন। তিনি বলেন, আগামী ৫০ বছরের চাহিদা পূরণে বে টার্মিনাল ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন, বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং বন্দরে প্রবেশ ও বাইরে অন্তত পাঁচটি গেট চালু করার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া আইসিডি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম আট লেন, এক্সপ্রেস ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং বুলেট ট্রেন চালু করা, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু রেলসহ নির্মাণ, নিরবচ্ছিন্ন ও গুণগত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং চট্টগ্রামে পাঁচটি ব্যাংকের হেডকোয়ার্টার স্থাপন, বছরে একটি কেবিনেট মিটিং আয়োজনের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়ারে (ক্ষমতায়) থাকলে দেশের যেকোনো বড় স্বপ্ন বাস্তবায়ন এখন অসম্ভব নয়।

বিজিএমইএ সাবেক সহসভাপতি এম এ সালাম বলেন, ঢাকার ঋণখেলাপি হলে যেমন বাংলাদেশের খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা হয় তেমনি চট্টগ্রামের ঋণখেলাপি হলেও যেন জাতীয়ভাবে বিবেচনা করা হয়।

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ শামসুল হক চৌধুরী, সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালক এ কে এম আক্তার হোসেন ও ছৈয়দ ছগীর আহমদ, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, ও চট্টগ্রাম চেম্বার সাবেক সভাপতি ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, বিকেএমইএর সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মোস্তফা, রিহ্যাবের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাঙামাটি চেম্বারের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া, কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী প্রমুখ।



মন্তব্য