kalerkantho


বেনাপোলে ৯৯ শুল্ক ফাঁকি উদ্ঘাটন

২১ কোটি টাকা শুল্ক আদায়

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে সরকার প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব পেয়ে থাকে দুই হাজার কোটি টাকা। দেশের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী এই বন্দর ব্যবহার করেন। আর এই সুযোগে গড়ে উঠেছে শুল্ক ফাঁকি চক্র। বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। একটি চক্র বেনাপোল কাস্টম থেকে প্রতিনিয়ত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য চালান নিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে ৯৯টি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে সরকার অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করেছে ২১ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ১২৫ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১১৪টি, শুল্ক আদায় করা হয় ৩১ কোটি ৯৮ লাখ চার হাজার ৩৯৪ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল ১৮১টি, যা থেকে সরকার শুল্ক আদায় করেছিল ১৫ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ১৯৩ টাকা। অভিযোগ রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের যোগসাজশে এই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়ছে।

বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী পরিচালক নিপুণ চাকমা জানান, বেনাপোল দিয়ে কেউ যাতে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমরা তৎপর আছি। তবে কিছুটা লোকবল ঘাটতি রয়েছে। তার পরও ভবিষ্যতে কেউ যাতে বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকি দিতে না পারে সে জন্য সব ধরনের চেষ্টা আমাদের রয়েছে। শুল্ক ফাঁকি রোধে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের এক নেতা বলেন, শুল্ক ফাঁকি বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির সঙ্গে সরাসরি কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত। তাঁদের সম্মতি ছাড়া শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটতে পারে না। তিনি বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শুধু মাল ছাড় করানোর দায়িত্ব পালন করে। শুল্ক ফাঁকি মূলত আমদানিকারক ও কাস্টমস বন্দরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হয়ে থাকে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির পক্ষে আমরা নই। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে অবশ্যই কাস্টমসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কেননা কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে শুল্ক ফাঁকি হতে পারে না। শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমসকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, শুল্ক ফাঁকির কয়েকটি পণ্য আমরা আটক করে মামলা দিয়েছি। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে লাইসেন্স বাতিল, মামলা, অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য আমদানি হলে তাতে কাস্টমস ছাড় দেয় না। জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়লে আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। আমাদের নজরদারির কারণে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচারের কোনো সুযোগ পাচ্ছে না ওই চক্রটি বলে জানান তিনি।



মন্তব্য