kalerkantho


যশোরে ৩০০০ কোটি টাকার মাছ উৎপাদনের রেকর্ড

ফখরে আলম, যশোর   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



যশোরে ৩০০০ কোটি টাকার মাছ উৎপাদনের রেকর্ড

যশোরে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকার মাছ উৎপাদিত হয়েছে। দেশের দ্বিতীয় মাছ উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে যশোরের নাম উঠে এসেছে।

মত্স্য অধিদপ্তরের যশোর জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোরে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৪২০ টন সাদা মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যা জেলার চাহিদার চেয়ে প্রায় তিন গুণ। উদ্বৃত্ত এক লাখ ৭৫ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে বা বিদেশে সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া হ্যাচারিগুলোতে ৭০.৩৩ মেট্রিক টন রেণু উৎপাদন হয়েছে। চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ছয় হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি কেজি গড়ে ১০০ টাকা ধরলেও যশোরে শুধু সাদা মাছ উৎপাদিত হয়েছে দুই হাজার ৩৬৪ কোটি টাকার। এ ছাড়া চিংড়ি ও রেণু পোনা বিবেচনায় নিলে মাছ উৎপাদনে টাকার পরিমাণ হবে তিন হাজার কোটি টাকা।

যশোর জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান জানান, যশোরে মোট জলাশয়ের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৪৮৪.৪০ হেক্টর। মোট মাছ চাষি ৮৬ হাজার ৬৬৭ জন। এ ছাড়া নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭৬৪ জন। দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানি হয়েছে।

মত্স্য বিভাগের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, মাছ চাষে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ময়মনসিংহ জেলা। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে যশোর জেলা। কিন্তু মাছের দাম কমে যাওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে আর বাজার ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় মাছ চাষিরা লোকসানে পড়ছেন। বর্তমানে পুকুরপাড়ে কই মাছ প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পাঙ্গাশ ৭০-৮০ টাকা, তেলাপিয়া ৭০-৮০ টাকা, এক কেজি ওজনের রুই ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছ চাষিদের বক্তব্য হচ্ছে, এই দামে মাছ বিক্রি হলে লোকসানই গুনতে হয়।

মত্স্য পল্লী হিসেবে খ্যাত যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া গ্রামের তরুণ মাছ চাষি মহিতুর রহমানের আট বিঘা আয়তনের পুকুরে কই মাছের চাষ রয়েছে। মহিতুর বললেন, ‘প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ কই উৎপাদন হয়। বর্তমানে পুকুরপাড় থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দামে প্রতি কেজি কই মাছ কিনছেন। এই দামে কই মাছ বিক্রি করলে পুঁজিই থাকবে না। কেননা মাছের খাদ্যের দাম অনেক বেশি। এ ছাড়া পুকুর খাজনাও বেশি। ১৪০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করা হলে কেজিতে ২০ টাকা লাভ হবে।’

একই গ্রামের হাবিবুর রহমান রুই মাছের চাষ করেন। তিনি বললেন, ‘বর্তমানে সাত-আটটিতে কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। মাছের খাবারের দাম বেড়ে গেছে। এই দামে মাছ বিক্রি করলে লোকসান হয়ে যাবে।’

যশোর হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার মাছ উৎপাদন করছি। কিন্তু আমাদের চাঁচড়া মত্স্যপল্লীতে মাছ বিক্রির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আধুনিক কোনো বাজার গড়ে তোলা হয়নি। মা মাছের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমরা এই অঞ্চলে একটি ব্রুডব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা আর মাছ চাষিদের নিবিড় পরিচর্যায় রেকর্ড পরিমাণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। সহসাই যশোর জেলা মাছ উৎপাদনে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করবে বলে আমি মনে করি।’



মন্তব্য