kalerkantho

আবারও বড় দরপতন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



আবারও বড় দরপতন

শেয়ার বিক্রির চাপে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৬৭ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম কমার সঙ্গে মূল্যসূচক কমেছে ৬১ পয়েন্ট, যা মোট সূচকের ১.১৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় শেয়ার বিক্রি করে মূলধন তুলে নিতেই ঝোঁক বেশি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে বেশি আর বড় বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও বাজার পর্যবেক্ষণে রয়েছে; যার জন্যই এমন পতন ঘটেছে।

এদিকে ব্যাংক খাতের কম্পানির শেয়ারের দামে হ্রাস-বৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারেও বড় উত্থান কিংবা পতনের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেদিন ব্যাংক খাতের কম্পানির শেয়ারে উল্লম্ফন ঘটে, সেদিন সূচক বাড়ে আর যেদিন শেয়ারের দাম কমে যায়, সেদিন পুঁজিবাজারে বড় পতন ঘটে। আগের দিন রবিবার ৯০ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছিল।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক খাতের ৮০ শতাংশ কম্পানির শেয়ার দাম হ্রাস পেয়েছে, যার দরুন পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে বড় প্রভাব পড়েছে। শেয়ার বিক্রির চাপে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট সূচক হারিয়েছে ডিএসই, একই সঙ্গে লেনদেনও কমেছে।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ৬১ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৭৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছিল ১১ পয়েন্ট। সেই হিসাবে সূচক ও লেনদেন উভয়ই নিম্নমুখী।

ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে নির্বাচনী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আর এই ভীতি থেকে শেয়ার বিক্রি করায় এমন পতন হয়েছে। আবার পুঁজিবাজারের একটি পক্ষ বাজার পর্যবেক্ষণে থাকায় পতন ত্বরান্বিত হয়েছে। কারণ তারাও বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।’

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়লে সূচকের পতনও ত্বরান্বিত হয়। এতে দিন শেষে সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩৮৪ পয়েন্ট। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৪৮ পয়েন্ট আর ডিএস-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৯৯ পয়েন্ট।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে খুলনা পাওয়ার। কম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৫৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট পাওয়ারের লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর ১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার লেনদেন করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার। অন্যান্য শীর্ষ কম্পানি হচ্ছে—শাশা ডেনিমস, ড্রাগন সোয়েটার, ইফাদ অটোস, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস, একটিভ ফাইন, ভিএফএস থ্রেড ও বেক্সিমকো।

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আর মূল্যসূচক কমেছে ১৩৩ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সোমবার লেনদেন হওয়া ২৩৮ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১৭৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪ কম্পানির শেয়ারের দাম।



মন্তব্য