kalerkantho


বায়োফার্মার দোষ স্বীকার

মিথ্যা তথ্য দেওয়া বায়োরোজ তুলে নেবে বাজার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বায়ো নেচারস লিমিটেডের (বায়োফার্মা) বায়োরোজ শরবত ও ফ্রুট সিরাপের প্রচারণায় ও মোড়কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. মিজানুর রহমান। একই সঙ্গে এসব মিথ্যা বিজ্ঞাপনসংবলিত এবং অননুমোদিত উপাদান দিয়ে বানানো শরবত দেশের বাজার থেকে তুলে নেবে মর্মে আদালতের কাছে অঙ্গীকারনামা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গতকাল রবিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে বায়োফার্মার বায়োরোজ শরবত ও ফ্রুট সিরাপের একটি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের কারণে দায়েরকৃত এ মামলার বিচারক হিসেবে ছিলেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ এফ এম মারুফ চৌধুরী। এ সময় বাদী বিএফএসএ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) মো. কামরুল হাসান ও বিবাদী ডা. মো. মিজানুর রহমান আদালতের সামনে তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা প্রথমে ‘মিথ্যা’ তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তাঁরা দাবি করেন, অননুমোদিত উপাদান দিয়ে তৈরি এ পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার জন্য কালের কণ্ঠ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। পরে বাদী তাঁদের কাছে বিজ্ঞাপনের কপিটি আদালতের সামনে তুলে ধরতে বললে তাঁরা সেটি দিতে পারেননি। তখন বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘আমরা বিএসটিআইয়ের কাছে আবেদন করেছি। এই পণ্যে একটি অননুমোদিত উপাদান গোলাপের নির্যাস রয়েছে।’

জানা গেছে, এ ধরনের শরবত বা সিরাপের ক্ষেত্রে গোলাপের রসের মতো উপাদান ব্যবহারের কোনো ধরনের সুযোগ নেই। এর অনুমোদন দিতে হলেও বিএসটিআইকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তাদের স্ট্যান্ডার্ডে আগে উপাদানটি যুক্ত করতে হবে। এরপর অনুমোদনের প্রশ্ন আসবে।

যুক্তিতর্কের শুরু থেকে বিবাদীপক্ষের আইজীবীরা বিবাদী অসুস্থ বলে তাঁর যাতে সর্বনিম্ন শাস্তি হয় সে বিষয়ে আদালতের সুদৃষ্টি কামনা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সব দোষ স্বীকার করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেন—পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার করে গ্রাহককে বিভ্রান্ত করা হবে না, বাজারে থাকা সব পণ্য তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দোষ স্বীকার করে যাতে সর্বনিম্ন শাস্তি দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সে আবেদন করা হয়।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, বায়োরোজের প্রচারণায় এত দিন ভিত্তিহীনভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রচার করে আসছিল যে এই শরবত ‘হিটস্ট্রোক’ রোগের ওষুধ; যার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রমাণ তারা আদালতে দিতে পারেনি। একই সঙ্গে অননুমোদিত উপাদান গোলাপের নির্যাস ব্যবহার করে তা আবার লেবেলিংয়ে বড় করে প্রচার করে অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে উল্লেখ করেন বিচারক এ এফ এম মারুফ চৌধুরী।

একই অপরাধে দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির সিনারোজ শরবত ও ফ্রুট সিরাপের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। গতকাল একই আদালতে বিবাদী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল হান্নান অসুস্থ বলে শুনানির পরবর্তী দিন প্রার্থনা করেন। আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন ২৬ সেপ্টেম্বর।



মন্তব্য