kalerkantho


‘প্রগ্রামার হতে দক্ষতা ও সৃজনশীলতা জরুরি’

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘প্রগ্রামার হতে দক্ষতা ও সৃজনশীলতা জরুরি’

রাজিব আরেফিন লিয়ন, সিইও, পাওয়ারপয়েন্ট টেকনোলজিস

‘একজন গ্রাহক যখন আমাদের সফটওয়্যার ক্রয় করেন তখন একটি সম্পর্কের সূচনা হয়। সেই সম্পর্ক আস্থা এবং বিশ্বাসের। তাদের যখনই প্রয়োজন হয় একটি ফোন কলেই আমরা সাড়া দিই। দ্রুত সমস্যার সমাধান করি। দূর থেকে কাজ না হলে সরাসরি চলে যাই।’ দৃঢ়তার সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার পয়েন্ট টেকনোলজিসের সিইও রাজিব আরেফিন লিয়ন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরো কম্পানিটিই হচ্ছে সেবাভিত্তিক। ভালো সেবা দিতে পারলে গ্রাহক এমনিতেই আসবে। তাই আমরা প্রচারণার জন্য কোনো মার্কেটিং টিম তৈরি না করে গড়ে তুলেছি একটি দক্ষ ও শক্তিশালী প্রগ্রামার টিম। যারা প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের নানা প্রয়োজনে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ও তাত্ক্ষণিক সেবার কারণে গ্রাহকরাও আমাদের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।’

রাজিব আরেফিন বলেন, “২০০১ সালে পাওয়ার পয়েন্ট লিমিটেড নামে কম্পানিটির যাত্রা শুরু হয়। যার পুরোভাগে ছিলেন আমাদের বস আহমেদ আগা তসলিম। ২০০৩ সালে আমি কম্পানিতে যোগ দিই। এরপর কম্পানির বেশ কিছু বড় প্রকল্প আমার ইমিডিয়েট বস আশফাকুজ্জামান ও আমার নেতৃত্বেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু ২০০৬ সালে আশফাকুজ্জামান স্যার আমেরিকায় চলে গেলে এবং ২০১০ সালে বোন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমাদের বস আহমেদ আগা তসলিম আকস্মিক মারা গেলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা ছেদ ঘটে। পরে তাঁর কোনো সন্তান সফটওয়্যার ব্যবসায় আসতে রাজি হননি। ফলে এককালীন কিছু অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে কম্পানিটির মালিকানা আমি গ্রহণ করি। এরপর ‘পাওয়ার পয়েন্ট টেকনোলজিস’ নামে ২০১০ সালে আমার নেতৃত্বে কম্পানির নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়। ওই বছরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বড় সফটওয়্যার প্রকল্পের কাজ পাই আমরা। এরপর ক্রমান্বয়ে অনেক বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাদের অন্যতম আনোয়ার গ্রুপ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, চিটাগাং গ্রামার স্কুল, জেএমএস গ্রুপ, ক্রাউন ফ্যাশন, এক্সাকো লিমিটেড ইত্যাদি। এই মহূর্তে আমরা অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যার সেবা দিয়ে যাচ্ছি। পণ্যের সংখ্যাও বাড়ছে। এর মধ্যে এইচআর ও অ্যাটেন্ডেনস বিষয়ক সফটওয়্যার ‘প্রাপ্তি’ এবং অ্যাকাউন্টিং বিষয়ক ‘যোগবিয়োগ’ বেশ জনপ্রিয়। সৌদি আরব ও দুবাইতেও আমরা এগুলো রপ্তানি করেছি। এ ছাড়া দেশের গার্মেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সুপারশপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল ইত্যাদিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সফটওয়্যারই আমরা সরবরাহ করি। সময়ের চাহিদা বিবেচনায় এখন মোবাইল অ্যাপসের দিকেও যাচ্ছি। ক্রমান্বয়ে আইটিসংশ্লিষ্ট সব সেবাই দেব। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদমুক্ত ইইএফ ফান্ড থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

রাজিব আরেফিন বলেন, ‘ভালো রেজাল্ট করলেই যে ভালো প্রগ্রামার হওয়া যাবে, এমনটি নয়। বরং আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, ভালো প্রগ্রামার হতে হলে নিজের মধ্যে কিছু গুণ থাকতে হয়। দক্ষতা ও সৃজনশীলতা জরুরি। যেমন ধৈর্যের সঙ্গে লেগে থাকা, ভালো আইকিউ এবং ম্যাথে পারদর্শিতা। আমি মনে করি, একাডেমিক দিক থেকে ভালো রেজাল্ট না করেও কারো এ গুণগুলো থাকলে সে কম্পিউটার প্রগ্রামার হতে পারবে।’

 



মন্তব্য