kalerkantho


বিএসইসির রজত জয়ন্তী উৎসব কাল

২৫ বছরে পুঁজিবাজারের মূলধন বেড়েছে ২২৮ গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



২৫ বছরে পুঁজিবাজারের মূলধন বেড়েছে ২২৮ গুণ

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২৫ বছরে সাফল্য-ব্যর্থতায় অনেক দূর এগিয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। কমিশন নিজে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে, পুঁজিবাজারকেও শক্ত ভিতে দাঁড় করাতে নানামুখী উদ্যোগ হাতে নিয়ে কাজ করছে।

গতকাল সোমবার ২৫ বছর পূর্তি বা রজত জয়ন্তী পালনে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির বিষয়ে জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কর্মকর্তারা। আগারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির মাল্টিপারপাস হলে কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান। কমিশনের আরেক নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ যৌথভাবে পুঁজিবাজার নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

১৯৯৩ সালের ৮ জুন জন্ম হওয়া প্রতিষ্ঠানটির রজত জয়ন্তী পালিত হবে ১২ সেপ্টেম্বর। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংসদ সদস্য, সিনিয়র সচিব, সচিব, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও শিক্ষক, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএলসহ শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন।

সাইফুর রহমান বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়। ধীরে ধীরে হলেও কমিশন আজ একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও) প্রথম শ্রেণির বা ‘এ’ ক্যাটাগরি মর্যাদা পেয়েছে। কমিশন পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে রেগুলেশন ও সুশাসন নিশ্চিত করছে।

১৯৯৬ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে বড় ধসের পর রেগুলেটর হিসেবে ভূমিকার প্রশ্নে নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘২৫ বছরে সফলতা ও ব্যর্থতা রয়েছে। ’৯৬-এর ধসের সময় রেগুলেটর হিসেবে আমরা একেবারেই নতুন ছিলাম। বিশ্বের বড় বড় দেশেও ধসের ঘটনা রয়েছে। ধসের পর আমরা আইন-কানুনে নানা পরিবর্তন এনেছি, পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতেও কাজ করছি। পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন থেকে শুরু করে মার্কেটের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট মামলার দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বাজার পর্যবেক্ষণে সার্ভেইল্যান্স, নতুন পণ্য আনতেও কাজ করে চলেছে কমিশন।’

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে নিকট ভবিষ্যতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজার ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য পুঁজিবাজারেই আসতে হবে। কারণ দেশের ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ নেই, স্বল্প মেয়াদেও ঋণ দেয় তারা। কাজেই দীর্ঘ মেয়াদের ঋণের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারে আসতে হবে।’

সাইফুর রহমান বলেন, ১৯৯৩ সালে কমিশনের যাত্রার শুরুর দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল এক হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ছিল ১৪৯টি। আর কম্পানি ছিল ১৩৯টি। বর্তমানে গতকাল পর্যন্ত পুঁজিবাজারের মূলধনের আকার বেড়েছে ২২৮ গুণ। বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৫ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৫৭৪টি। যার মধ্যে কম্পানি ৩০৭টি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৩৭টি, ডিবেঞ্চার আটটি আর ট্রেজারি বন্ড ২২১টি।



মন্তব্য