kalerkantho


২২৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে গ্রামীণ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘২০০৯ সালের পর গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি চিঠি আসত, আর আমাদের তার জবাব দিতে হতো। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এই চিঠি থেকে রিলিজ পেয়েছি। আর্থিকভাবেও ব্যাংকটি এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের লভ্যাংশ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবুল সাহা ২০১৭ সালের মুনাফা থেকে ছয় কোটি ২৪ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে চেক হস্তান্তর করেন। ২০১৭ সালে ব্যাংকটি ২২৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের অডিট করত এবং নোট দিত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইউনূস অবৈধভাবে পদে আছেন। কিন্তু কেউ তাঁর বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যায়নি। আমিই প্রথম ২০০৯ সালে অ্যাকশনে গেলাম। তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানালাম, তিনি বললেন, চেয়ারম্যান পদ দিতে হবে। আমি এই প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করলাম। কিন্তু সরকার সেটাতে সায় দিল না। এরপর আমি ড. ইউনূসকে বোর্ড মেম্বার করার প্রস্তাব দিলাম। কিন্তু তিনি (ড. ইউনূস) তাতে রাজি না হয়ে আদালতে গেলেন। আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁকে সরে যেতে হলো।

মন্ত্রী বলেন, এরপর থেকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে চিঠি আসত। আমাকে তাঁর জবাব লিখতে হতো। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আমি এটা থেকে রিলিজ পেয়েছি।

এতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো সংকট হয়েছিল কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই সমস্যা হয়েছিল। আমাদের পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি সুবিধা তুলে দিল তারা। দুটি দেশকে যুক্তরাষ্ট্র নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখত একটি—বাংলাদেশ, অপরটি রাশিয়া।

মুহিত বলেন, একসময় গ্রামীণ ব্যাংক তৃণমূল পর্যায়ে সঞ্চয় সংগ্রহ করে তৃণমূলেই বিতরণ করত। এতে তারা মুনাফা করতে পারেনি। এখন তৃণমূল থেকে টাকা সংগ্রহ করে বৃহৎ উদ্যোগে বিনিয়োগ করছে। এতে মুনাফা হচ্ছে প্রতিবছর। এখন এ ব্যাংক নিয়ে আর কোনো সমস্যা দেখছি না।

 



মন্তব্য