kalerkantho


কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

৫০০ সিসির মোটরসাইকেল রপ্তানি করবে রানার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



৫০০ সিসির মোটরসাইকেল রপ্তানি করবে রানার

বিশ্ববাজারে উচ্চমানের শৌখিন মোটরসাইকেল রপ্তানি করতে যাচ্ছে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড। নেপালের পর এবার প্রতিষ্ঠানটির নজর এখন ভুটান, মিয়ানমার, ভারতের সাতটি রাজ্য (সেভেন সিস্টার) আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে। সম্ভাবনাময় এসব বাজারে আগামী বছর থেকে উচ্চ প্রযুক্তির মোটরসাইকেল রপ্তানি করতে যাচ্ছে দেশীয় এই কম্পানি। এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ১৬৫ থেকে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল রপ্তানির জন্য কাঁচামাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ৩০ আগস্ট রানার অটোমোবাইলসকে রপ্তানির উদ্দেশ্যে ১৬৫ থেকে ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপদনের জন্য কাঁচামাল ও উপাদান আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রদান করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আপাতত মোটরসাইকেল, আমদানি পার্টস বিক্রি না করা এবং এটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার শর্তে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুছ সামাদ আল আজাদ স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রটি রানার গ্রুপের কাছে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত যে আমাদের আবেদনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাড়া দিয়েছে। এখন আমরা হাই অ্যান্ড মোটরসাইকেলের বাজারে প্রবেশ করব। এর মধ্য দিয়ে মেড ইন বাংলাদেশ খ্যাত রানার মোটরসাইকেল ছড়িয়ে পড়বে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শৌখিন বাইকারদের কাছে উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিবছর দুই কোটি ইউনিট উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। এই বাজার ধরতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতিমধ্যে ভালুকায় আমাদের কারখানায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি। বাজার গবেষণা, উদ্ভাবন, মান নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। এখন কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানির পর শিগগিরই ১৬৫ থেকে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল আমরা দেশেই বানাতে সক্ষম হব এবং তা রপ্তানি করব। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা ২০০ থেকে ২৫০ সিসিতে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে।’

রানার অটোমোবাইলসের এমডি ও সিইও মুকেশ শর্মা বলেন, ‘রানার অটোমোবাইলস রপ্তানি বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, এ বছরের শেষ নাগাদ আমাদের কারখানায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল উৎপদন করতে পারব। আগামী বছর থেকে তা রপ্তানি শুরু হবে।’ তৈরি পোশাক, চিংড়ি, চামড়াজাত পণ্যসহ অনেক পণ্যই রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারিতে রানার অটোমোবাইলসের মাধ্যমে বাংলাদেশ তালিকায় নাম লেখায় মোটরসাইকেল। সেদিন ভালুকায় রানারের রপ্তানি উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসে ৮০ থেকে ১৫০ সিসির সাত মডেলের মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাপক পরিসরে নেপালের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ করে রানার অটোমোবাইলস।

রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘নেপালে আমাদের মোটরসাইকেল রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে রপ্তানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে সুষ্ঠু নীতি সহায়তা পেলে বিশ্ববাজারে রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আধিপত্য স্থাপনে সক্ষম হবে।’

 



মন্তব্য