kalerkantho


ইরানের তেল আমদানি বন্ধ করছে এবার জাপান

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইরানের তেল আমদানি বন্ধ করছে এবার জাপান

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভারতের পথ ধরে এবার ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ করে দিচ্ছে জাপান। স্থানীয় পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী অক্টোবর থেকে ইরানের তেল আমদানি বন্ধে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপানের বড় কম্পানিগুলো। যেসব দেশ ইরানের তেল আমদানি করছে সেসব দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে এমন ভয়ে এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মিত্র দেশটি।

গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক দেশগুলোর পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। গত আগস্টে দেশটির ওপর প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে আগামী ৫ নভেম্বর। এর লক্ষ্যবস্তু হবে ইরানের জ্বালানি খাত। পেট্রোলিয়ামসংক্রান্ত লেনদেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেন।

এ নিষেধাজ্ঞার পর কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা না করে এ নিয়ে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যে ব্যবসা করবে সে আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। আমি বিশ্বে শান্তি চাই অন্য কিছু নয়।’ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য নিয়ে এর আগে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নীতি ও পরিকল্পনা বিষয়ক পরিচালক ব্রিয়ান হুক বলেছেন, ইরান কোনো স্বাভাবিক দেশ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে হলে তাদের অবশ্যই ১২ দাবি মেনে নিতে হবে।’ হুক জানান, এরই মধ্যে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইরানের বাজার ত্যাগ করার অভিপ্রায় জানিয়েছে। বিশেষ করে তারা জ্বালানি ও আর্থিক খাত থেকে সরে আসবে।

জাপানের জিজি প্রেস এজেন্সি জানায়, জাপানের কম্পানিগুলো ইরানের তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়ে অন্য বিক্রেতা খুঁজছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি মানার জন্য দেশটি কিছু সুবিধাও চাইছে। এদিকে জাপানের তেল আমদানি বন্ধ করা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।

জাপানের অন্যতম আমদানিকারক শোয়া শেল সেকিউর একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ইরান থেকে তেল আমদানির ব্যাপারে আমরা সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এ মুহূর্তে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ জাপানের তেল আমদানি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর দেশটি ইরান থেকে ৫.৩ শতাংশ তেল আমদানি করে।

তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মুহূর্ত থেকে তেল আমদানি না করার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। নতুন একটি চুক্তি করার জন্য ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করতে চায় ওয়াশিংটন। সে লক্ষ্য পূরণে দেশটি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যকে আহ্বান জানিয়েছে তাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জোট বাঁধতে।

তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে দেশটির তেলের দ্বিতীয় বৃহৎ ক্রেতা দেশ ভারত। তেল ও শিপিং শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্যে জানা যায়, গত জুনে ইরান থেকে তেল আমদানি দৈনিক পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ ব্যারেল কমিয়েছে ভারত, যা মে মাসের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম। জানা যায়, ভারত সরকার দেশটির পরিশোধন কম্পানিগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে, ইরান থেকে তেল আমদানি শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য।

ইরানের রাজস্ব আয়ের ৬০ শতাংশ ও রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তেল থেকে। ওপেক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তেল রপ্তানিকারক দেশ ইরান। ফলে দ্বিতীয় দফার নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলা করা দেশটির জন্য আরো কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রয়টার্স, এএফপি।



মন্তব্য