kalerkantho


শতবর্ষী জুবিলী ব্যাংকে গতি আনার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শতবর্ষী জুবিলী ব্যাংকে গতি আনার উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের শেয়ারসহ নানা কারণে থমকে থাকা জুবিলী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম।

আদালতের নির্দেশনার আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শত বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো জুবিলী ব্যাংকের ‘স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান’ পদে শাহ আলমকে নিয়োগ দেয়। নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব নিয়ে দ্রুততম সময়ে ব্যাংকটির স্থগিত থাকা সব বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্পন্ন করতে হবে।

জানা গেছে, মালিকানার দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে জুবিলী ব্যাংকের এজিএম অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ২০১২ সালে এজিএম করা নিয়ে ব্যাংকটির পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। মামলার আদেশের আলোকে গত ৩০ আগস্ট মো. আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট অফিসের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। আগামী ৬ আগস্ট তাঁকে সিলেটের দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৯১৩ সালের ১৫ এপ্রিল ‘খোকসা জানিপুর জুবিলী ব্যাংক লিমিটেড’ নামে কম্পানি হিসেবে আরজেএসজিতে নিবন্ধিত হয়। ১৯৮৭ সালের ২৬ জানুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ‘জুবিলী ব্যাংক লিমিটেড’ করা হয়। প্রথমে স্বর্ণ বন্ধকী ব্যবসা পরিচালনার সীমাবদ্ধতা রেখে মাত্র একটি শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পায়। পরবর্তী সময় স্বর্ণ বন্ধকের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কুটির শিল্প ও চাষিদের সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয় এই ব্যাংকটিকে। এটি দেশের অতফসিলি পাঁচটি ব্যাংকের একটি।

সূত্র জানায়, এর আগে এজিএমসংক্রান্ত মামলার আদেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের প্যানেল করে তাদের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত। তবে তা না করে সরাসরি এমডি নিয়োগ দেওয়ায় গত বছরের নভেম্বরে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়। মামলার শুনানি শেষে আদালত অবমাননার দায়ে তাঁদের সাজা দেন আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তৎকালীন চেয়ারম্যান এমবিআই মুন্সী ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামানকে এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একজন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় তাঁকেও এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যাংক চার পরিচালককে কিছু সময় আদালত কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকার দণ্ড এবং অপর এক নারী সদস্য অসুস্থ থাকায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মেজর (অব.) বজলুল হুদা, কর্নেল (অব.) ফারুক ও কর্নেল (অব.) আব্দুর রশিদের নামে শেয়ার থাকার বিষয়টি জানাজানির পর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে ব্যাংকটি। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে গত বছর সাতজনের দণ্ডের পর সংকট আরো ঘনীভূত হয়। তা ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তরা চেয়ারম্যান বা পরিচালক থাকতে পারেন না। এর আগে মুনাফা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় গত বছরের মার্চে জুবিলী ব্যাংকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে খোলা হিসাব বন্ধের আবেদন করেন রফিকুল আলম, রিদওয়ানুল বারি মুনীর ও মো. শহীদ উল্লাহ নামে জুবিলী ব্যাংকের তিন শেয়ারহোল্ডার।

গতকাল সোমবার মো. শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্দেশিত তারিখেই আমি জুবিলী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করব। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকেই একটি জায়গা আমাকে দেওয়া হবে যেখানে বসেই জুবিলী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা যাবে।’



মন্তব্য