kalerkantho


‘ঈদ এলেই রাস্তায় নামতে হয় বকেয়া মজুরির দাবিতে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার কথা থাকলেও কাজ করতে হয় ১৮ ঘণ্টা। মালিকরা ঈদের ছুটির দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়। এর ফলে বন্ধের কাজ পুষিয়ে দিতে সাপ্তাহিক ছুটিও বাতিল হয়। কোনো কোনো সময় অতিরিক্ত কাজের সময় টিফিন দেয় না। তার পরও কাজ করি, দুটি টাকা বেশি নিয়ে আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাব। কিন্তু সেই ঈদ এলেই আমাদের রাস্তায় নামতে হয় বকেয়া মজুরি আর বেতন-ভাতার দাবিতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বকেয়া বেতন ও মজুরির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এমনভাবেই হতাশার কথা শোনালেন আশুলিয়া অঞ্চলের একজন গার্মেন্টকর্মী মো. রুবেল মিয়া।

মূল মজুরির সমান ঈদ বোনাস এবং আগস্ট মাসের অর্ধেক মজুরিসহ সব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ থেকে একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণারও দাবি জানান গার্মেন্ট টিইউসি নেতারা। দ্রুততম সময়ে এ ঘোষণা না এলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরী সভাপতি কাজী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, কে এম মিন্টু, দুলাল সাহা, আজিজুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান রুবেল। এতে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ এম এ শাহীন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঈদের মাত্র পাঁচ দিন বাকি। অথচ গার্মেন্টশিল্পের শ্রমিকদের বোনাস ও মজুরি পরিস্থিতি ভয়াবহ। তাঁরা বলেন, অন্তত অর্ধেক কারখানায় এখনো জুলাই মাসের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। এমতাবস্থায় ঈদের আগে শ্রমিকদের বোনাস ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। তাঁরা জানান, ১৬ আগস্ট শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধের শেষ দিন। কিন্তু বোনাস দূরের কথা এখনো জুলাই মাসের মজুরি বকেয়া থাকার ফলে শ্রমিকদের ঈদ উদ্‌যাপন মাটি হতে চলেছে।



মন্তব্য