kalerkantho


নাটোরে ৬০০ কোটি টাকার গরু বেচাকেনা হবে

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে নাটোরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার গরু পালন করা হয়েছে। এসব গরু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। এবার দেশি গরুর বাজার চাঙ্গা থাকায় অধিক লাভের আশা করছে খামারিরা। তবে কোনোভাবেই যেন অবৈধ পথে গরু আসতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে তারা।

নাটোর প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে ঝুঁকেছেন সদর, গুরুদাসপুরসহ নাটোরের বেশির ভাগ উপজেলার খামারিরা। এখানকার সাড়ে ৫ হাজার খামারে গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে। কোরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট করতে এখানকার খামারিরা বেছে নিয়েছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। গমের ভুসি, চালের খুদ, খড়, কাঁচা ঘাসসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হচ্ছে উন্নত জাতের গরুগুলোকে। উপযুক্ত পরিচর্যার কারণে এসব গরু মোটা ও স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠছে।

নাটোর সদর উপজেলার ডাল সড়কের খামারি রেকাত উদ্দিন বলেন, কোরবানির ঈদকে টার্গেট করেই বিভিন্ন হাট ঘুরে ১০১টি উন্নত জাতের গরু যেমন শাহীওয়াল, রাজস্থানী, হরিয়ানা, উলুবাড়িয়া, নেপালি, দেশি শংকর জাতের গরু কিনেছেন। তারপর সাত থেকে আট মাস পরিচর্যা করেছেন। প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করায় এখানকার গরুর চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে এখানকার খামার থেকে। প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করেছেন। তিনি জানান, গরু মোটাতাজা করতে কোনো রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন না। গরুগুলোকে সাধারণত কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, গমের ভুসি, চালের খুদ খাওয়ানো হয়। এ পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করলে অল্প দিনেই গরু হৃষ্টপুষ্ট হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলার কালাকান্দর গ্রামের খামারি ওমর শেখ বলেন, গরু পালন লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে দিন দিন গরুর খামার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে কোরবানির আগে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা গরুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন দেশীয় খামারিরা। এ জন্য সীমান্ত পথে অবৈধ গরু আসা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

একই উপজেলার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়ার খামারি আজাদ উদ্দিন বলেন, তাঁর খামারে বর্তমানে ৫০টি গরু আছে। পুঁজির অভাবে তিনি খামারটি বড় করতে পারছেন না। সহজ শর্তে ঋণ পেলে তিনি খামার বড় করাসহ অধিক লাভ করতে পারতেন।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বেলাল হোসেন বলন, পশু মোটাতাজাকরণে অবৈধ পন্থা ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত আছে। এ বছর কোরবানির জন্য নাটোরে প্রায় ৮০ হাজার গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে। যার বাজার মূল্য ৬০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় গরুর খামারিরাও লাভবান হচ্ছে।



মন্তব্য