kalerkantho


অ্যামচেমের ভোজসভায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূত

ব্যবসা সহজ হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসবে

► ব্যবসার শুরুতে ৪২ দরজায় ধরনা দেওয়ার ধারা বন্ধ করতে হবে
► কারখানার নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে আনতে হবে
► পোশাক খাতের সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়মিত নজরদারি করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ব্যবসা সহজ হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসবে

মার্শা বার্নিকাট

বাংলাদেশে অনেক সাফল্য আছে এসব সাফল্যের গল্প দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরতে হবে। আর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই দেশে আনতে হবে। এরা এলে এবং বিনিয়োগ পরিবেশ দেখলে আমি নিশ্চিত তাঁরা আকৃষ্ট হবেন। তবে এর আগে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে জোর দিতে হবে। একটা ব্যবসা শুরু করতেই ৪২ দরজায় ধরনা দিতে হবে এ ধারা বন্ধ করতে হবে। এটা কমিয়ে আনতে পারলেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের প্রতি আরো আগ্রহী হবে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট তাঁর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন। রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে এ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম প্রমুখ।

মার্শা বার্নিকাট বলেন, গত কয়েক বছরে তৈরি পোশাক খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশে সংস্কৃতিতে নিয়ে আসতে হবে। নিরাপত্তা খাতে ব্র্যান্ডগুলোকে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। পিছু হটলে হবে না। শ্রমিকদের কথা বলতে দিতে হবে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এবং অন্যদের  শোনার মানসিকতা থাকতে হবে। মার্শা বার্নিকাট ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দায়িত্ব পালন শেষে চলতি মাসেই তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

তৈরি পোশাক খাতের সংস্কারে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাগোষ্ঠী অ্যালায়েন্সের সময় বৃদ্ধি চায় কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ্যালায়েন্স তাদের কর্মসূচি বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে তারা চায় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ দিতে। সরকারের রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেলের আওতায়। এদিকে ইউরোপের ক্রেতা জোট আরো থাকতে চায় বলে জানান তিনি। যাই হোক সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করলে বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। অভিন্ন মূল্যবোধের অংশ হিসেবে তিনিসহ অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রচারণা চালান।

বার্নিকাট আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশে একই সময়ে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে যারাই সরকারে আসুক না কেন, আমরা চাই তারা যেন জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, গত কয়েক বছরে তিনি এবং তাঁর দূতাবাস গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে চেষ্টা চালিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনগণের মঙ্গল ও কল্যাণকে গুরুত্ব দেয়। এ সময় প্রায় এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে তাঁর দেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি দেশ। এ সময় একক দেশ হিসেবে তাঁর দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রায় ৬১ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত চেষ্টা করা হয়েছে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে। আমি গর্বিত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি বড় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ। এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দাঁড়ায় ৭০০ কোটি ডলার।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে অ্যামচেম সভাপতি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বার্নিকাট তাঁর দায়িত্বকালীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ জন্য তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। বিশেষ করে তিনি ধন্যবাদ জানান ইউএস ট্রেড শোগুলোর আয়োজনে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার জন্য।



মন্তব্য