kalerkantho


গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

খেলাপি ঋণ কমাতে এডিআর জোরদার করতে হবে

বাণিজ্য ডেস্ক   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



খেলাপি ঋণ কমাতে এডিআর জোরদার করতে হবে

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতিসহ অন্যরা

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিমাণ না কমালে আর্থিক খাত শক্তিশালী করা সম্ভব হবে না। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম আরো জোরদার করে খেলাপি ঋণ আরো কমানো সম্ভব।

গতকাল বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিয়াক) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে আয়োজিত ‘খেলাপি ঋণ আদায়ে এডিআরের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিয়াক-এর চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি এডিআর আরো গতিশীল করার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরির খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান। ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ এবং সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। গোলটেবিল আলোচনায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহসান-উজ জামান এবং ইউএ্যাবের বোর্ড অফ ট্রাস্ট্রির বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমরান রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন।

গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ইভিপি ও হেড অফ লিগ্যাল ব্যারিস্টার শাফায়াত উল্ল্যাহ। মূল প্রবন্ধে তিনি জানান, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এ থেকে উত্তরণের জন্য তিনি এডিআরকে বিকল্প পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সামস্টিক ব্যাংক ঋণের প্রায় ১১ শতাংশই খেলাপি ঋণ। তিনি ব্যাংক ঋণবিষয়ক স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদ্যমান অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ কে যুগোপযোগী করা আবশ্যক।

গোলটেবিল আলোচনায় মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, বর্তমানে আদালতে অর্থঋণবিষয়ক মামলার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সে ক্ষেত্রে মামলাজট কমানো ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিয়াক অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আরো বলেন, সাত বছর ধরে বিয়াক খেলাপি ঋণ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, মধ্যস্থতা, প্রশিক্ষণ প্রভৃতি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সবার জন্য সমান আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর আগে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই অহেতুক হয়রানি কমানো সম্ভব হবে। তিনি জানান, উন্নত দেশগুলোতে যেখানে ২% খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে ১০% অধিক খেলাপি ঋণ বিদ্যমান আছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে আইনের সংস্কারের প্রয়োজন হলে, সরকার তা করতে অত্যন্ত আগ্রহী।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বর্তমানে আমাদের মোট ঋণের ১০.৭৮% খেলাপি এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এর পরিমাণ ছিল ৯.৩১%। তিনি জানান, এশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ খুবই কম যেমন; মালয়েশিয়ায় ১.৬%, ফিলিপাইনে ১.৯%, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় ২.৯%, কম্বোডিয়ায় ২.৫%, শ্রীলঙ্কা ২.৬% এবং নেপালে ২% খেলাপি ঋণ রয়েছে। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের উচ্চহারের কারণে ভালো গ্রহীতারা প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না এবং উদ্যোক্তা উচ্চহারে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিসিসিআইর সভাপতি খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য ব্যাংকগুলো করপোরেট গভর্ন্যান্স বাস্তবায়ন এবং সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন, ঋণ আদায়ে জিরো টলারেন্স নীতিমালা গ্রহণ, খেলাপি ঋণের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনায়ন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর আরো বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিয়াকের সিইও মোহাম্মদ এ (রুমি) আলী বলেন, ব্যাংকের তারল্যের সঙ্গে খেলাপি ঋণের বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার আগে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ধারাটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। তিনি এডিআরকে জনপ্রিয় করতে আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। লেজিসলেটিভ এবং সংসদবিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন বেগম অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ কে সংস্কার এবং এর সঙ্গে এডিআরকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা নাসরিন বলেন, দেশের অর্থনীতির সুস্থ বিকাশের জন্য কার্যকর ব্যাংক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।



মন্তব্য