kalerkantho


সয়াবিন তেল রপ্তানিতে যাচ্ছে চার কম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সয়াবিন তেল রপ্তানিতে যাচ্ছে চার কম্পানি

বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দামে স্থিতিশীলতা, বিনা শুল্কে রপ্তানির সুযোগ এবং প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে সয়াবিন তেল রপ্তানির সুযোগ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ট্যারিফ কমিশন ও  বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মেঘনা, সিটি, টিকে ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কম্পানিকে ভোজ্য তেল সয়াবিন রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের ভোজ্য তেলের বাজারের এই প্রধান চার কম্পানি সব মিলিয়ে ৭০ হাজার ৫০০ টন ভোজ্য তেল রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

ট্যারিফ কমিশন বলছে, যেহেতু কম্পানিগুলোর অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা নেই, তাই তাদের আবেদনের ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই তেল রপ্তানি হচ্ছে মূলত ভারতে। সাফটা চুক্তির আওতায় বিনা শুল্কের সুবিধায় সয়াবিন তেল রপ্তানি করছে কম্পানিগুলো। তবে বিশ্ববাজারে যদি কখনো তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে নতুন করে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হবে না বলেও জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে দেশের বাজারে তেলের সরবরাহে সংকট এবং দাম বেড়ে যেতে পারে।

রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার গত বছর প্রথম শর্ত সাপেক্ষে ভোজ্য তেল রপ্তানির অনুমোদন দেয়। যদিও সর্বশেষ রপ্তানি নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন ও পাম অয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধ। দেশে সরবরাহ ঠিক রাখতে এ বিধান করেছে সরকার। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাইলে শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানির অনুমোদন দিতে পারে।

জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে মেঘনা গ্রুপকে ২০ হাজার টন ও সিটি গ্রুপকে ২৫ হাজার টন ভোজ্য তেল রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত জুনের মধ্যে এসব তেল রপ্তানির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যদিও কম্পানিগুলো নির্ধারিত সময়ে সব তেল রপ্তানি করতে পারেনি। পরে নতুন করে পরিমাণ ও সময় বাড়িয়ে নিতে আবেদন করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। আরো কিছু রপ্তানির অনুমতির আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নুরজাহান গ্রুপের জাসমির ভেজিটেবল অয়েল এক লাখ টন ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কম্পানি ২০ হাজার টন রপ্তানির অনুমোদন চেয়েছে বলে জানা গেছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা জানান, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একবার ভোজ্য তেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী কম্পানিগুলোর উৎপাদনক্ষমতা দেশের চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটিও শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। দেশের সরবরাহ ঠিক রেখে রপ্তানি করা গেলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই লাভজনক হবে—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এটিই বিবেচ্য। দেশে প্রতিবছর ২৪ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেশে যেসব কম্পানি ভোজ্য তেল পরিশোধন করে তাদের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৬০ লাখ টন। যদিও চাহিদা ও উৎপাদনের এ তথ্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। শুধু উৎপাদন সক্ষমতাই নয়, পাশের দেশ ভারতে ভোজ্য তেলের চাহিদা ও শুল্ক সুবিধাও এ ক্ষেত্রে কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় অংশ শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়ে থাকে, যার মধ্যে ভোজ্য তেল রয়েছে। এ ছাড়া সাফটার আওতায়ও একই ধরনের রপ্তানি সুবিধা রয়েছে ভারত, নেপাল ও ভুটানের বাজারে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা এসব বাজারে রপ্তানি করতে চায়। ভারত সরকার সম্প্রতি ভোজ্য তেল আমদানিতে কর বাড়িয়েছে। কিন্তু ওই দেশে শুল্কমুক্তভাবে তেল রপ্তানির সুযোগ থাকায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশি কম্পানিগুলো। কারণ বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে শুল্ক দিতে হয় না। ভারতের ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি ভোজ্য তেলের বড় বাজার।

রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, ভারত সরকার অপরিশোধিত পাম তেল আমদানিতে শুল্কহার দ্বিগুণ করায় তা বেড়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পরিশোধিত পাম তেলের শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি শুল্ক সাড়ে ১৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ এবং পরিশোধিত সয়াবিন তেলের শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। রয়টার্স বলছে, ভারত ভোজ্য তেলের চাহিদার ৭০ শতাংশ মেটায় আমদানি করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশটি দেড় লাখ টন আমদানি করেছে। তাদের চাহিদা দুই কোটি টনের বেশি।



মন্তব্য