kalerkantho


হালাল ট্যুরিজম হবে ২৪৩ বিলিয়ন ডলারের

বৈশ্বিক ভ্রমণ ব্যয়ের ১২.৩ শতাংশ হালাল ট্যুরিজম

বাণিজ্য ডেস্ক   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



হালাল ট্যুরিজম হবে ২৪৩ বিলিয়ন ডলারের

মিসরের পিরামিড ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। ছবি : এএফপি

বিশ্বজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে ‘হালাল ট্যুরিজম’। গত বছর বিশ্বজুড়ে মুসলিম ভ্রমণ ছিল যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। হালাল হোটেল থেকে শুরু করে হালাল বিমান, বিচ রিসোর্ট এবং হালাল ডাইনিং এখন ক্রমবর্ধমান মুসলিম ভ্রমণকারীদের কাছে কাঙ্ক্ষিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলমানদের ভ্রমণ বৃদ্ধি এবং কম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণের তাগিদ থেকেই মূলত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হালাল পর্যটন।

থমসন রয়টার্স প্রকাশিত ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে মুসলিমরা ভ্রমণে ব্যয় করেছে ১৬৯ বিলিয়ন ডলার। বার্ষিক ৮.২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ২০২১ সাল নাগাদ এ ব্যয় দাঁড়াবে ২৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক ভ্রমণ ব্যয়ের ১২.৩ শতাংশ হবে। আর ২০২২ সাল নাগাদ এ বাজার হবে ২৮৩ বিলিয়ন ডলার।

আমেরিকান প্রতিষ্ঠান এয়ারবিএনবির মতো অনেক মুসলিম প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে হালাল পর্যটন সুবিধা দিতে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে পারিবারিক পরিবেশে পর্যটনেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত স্থান ও হালাল খাদ্য কোথায় পাওয়া যাবে এসংক্রান্ত নানা তথ্য দেওয়া হচ্ছে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অর্থাৎ যারা শূকরের মাংস এবং অ্যালকোহল পছন্দ করে না, একই সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং নিয়ম মেনে চলেন সেসব মুসলিম পরিবারকে উদ্দেশ্য করেই মাঠে নেমেছে এসব প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে হালাল পর্যটন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, দ্বিতীয় মালয়েশিয়া, তৃতীয় তুরস্ক, চতুর্থ সিঙ্গাপুর, পঞ্চম জর্দান, ষষ্ঠ মালদ্বীপ, সপ্তম ইরান, অষ্টম লেবানন, নবম ওমান এবং দশম স্থানে রয়েছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক তুরস্কে জঙ্গি হামলাসহ নানা ইস্যুতে পর্যটক কমলেও হালাল পর্যটন সুবিধা দিয়ে দেশটি বিপুলসংখ্যক মুসলিম ভ্রমণকারী আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে পর্যটন আয় ৩১.৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার।

ভ্রমণ ও পর্যটন কম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা এক ধরনের বিশেষ অনলাইন অ্যাপ ছেড়েছেন। যার মাধ্যমে একজন মুসলিম সেসব স্থান খুঁজে পেতে পারেন যেখানে হালাল পণ্যের দোকান রয়েছে এবং হালাল সেবা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন বিশেষজ্ঞ হাসান সাকির বলেন, হালাল পর্যটন এখন মধ্যপ্রাচ্য কিংবা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন বিশ্বের সব দেশেই ছাড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন কম্পানিগুলোও এ ব্যবসা লুফে নিচ্ছে।

সম্প্রতি বিশ্বের বৃহৎ একটি পর্যটন কম্পানি হালাল ট্যুরিজমের একটি ওয়েবসাইট খুলেছে ইংরেজি ভাষায়। এ ওয়েবসাইটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং হালাল সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট, হোটেল এমনকি নিকটস্থ মসজিদ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের পর্যটন বিশেষজ্ঞ ইব্রাহিম আল-রাশেদ বলেন, হালাল পর্যটন এখন মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ভালো প্রবৃদ্ধি করছে। হালাল পর্যটন নিয়ে কাজ করা একটি কম্পানির পরিচালক আবদুল্লাহ আল সাফি বলেন, ‘হালাল পর্যটন’ এ শিল্পের সর্বসাম্প্রতিক উদ্ভাবন। এতে ধর্মানুভূতিসম্পন্ন মুসলিম পরিবারগুলো যেমন ভ্রমণে উৎসাহিত হচ্ছে তেমনি এ খাতে ব্যবসাও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এমনকি এসব ক্ষেত্রে ট্যুর অপারেটররাও সেসব বিমানে ফ্লাইট বুকিং দিচ্ছে যেখানে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় সরবরাহ করা হয় না, নামাজের সময় ঘোষণা করা হয় এবং পবিত্র কোরআন সরবরাহ করা হয় যাত্রীদের। আরব নিউজ, অ্যারাবিয়ান বিজনেস, রয়টার্স।



মন্তব্য