kalerkantho


তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দুর্গাপুরে

হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দুর্গাপুরে

নেত্রকোনার আদিবাসী নারীরা ‘দকমান্দা’ পোশাক তৈরি করছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

তাঁতে কাপড় বুনে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি এলাকার আদিবাসী নারীরা। তাদের তৈরি করা আদিবাসী পোশাক স্থানীয়দের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদেরও আকর্ষণ করছে।

আদিবাসীদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সহায়তা দিয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ। এ সহায়তায় স্থানীয় আদিবাসী নারী সংগঠনের সদস্যরা আবারও শুরু করেছেন তাদের প্রিয় তাঁতশিল্পের কাজ।

সরেজমিনে বিরিশিরি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকার একমাত্র তাঁতঘরটি তাঁতের ঠকঠক শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। আদিবাসী নারী সদস্যরা তাদের ঐতিহ্যগত পোশাক ‘দকমান্দা’ তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে কমবেশি সবাই তাঁতের সঙ্গে পরিচিত। তবে ওই তাঁতঘরে নতুন তাঁত মেশিন না থাকায় পুরনো মেশিনে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না বলে তারা দাবি করেছে।

আদিবাসী শ্রমিক শেফা সাংমা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় আমাদের হারিয়ে যাওয়া শিল্প ফের ফিরে পেয়েছি। সরকারের সহায়তা পেলে আমরা এ শিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারব। শৈফা সাংমা আরো বলেন, নতুন মেশিন না থাকায় কাপড় তৈরিতে অধিক খরচ হচ্ছে। তাই আমাদের তৈরি কাপড় এলাকার বাইরে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়। আমাদের এ শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনা সুদে ঋণ প্রদান প্রয়োজন। তাহলে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও পোশাক সরবরাহ করতে পারব।

আদিবাসী নারী সংগঠন ওয়াইডাব্লিউসির সাধারণ সম্পাদক লুদিয়া রুমা সাংমা বলেন, আদিবাসীদের কাছে একসময় তাঁতশিল্প আর্থিকভাবে লাভজনক একটি শিল্প হিসেবে জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এ শিল্পটি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অর্থ সংকটে বাধাগ্রস্ত হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীরা এই শিল্পটিকে বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। রুমা সাংমা আরো বলেন, এখানে প্রায় ৪০টি মেশিন রয়েছে, সুতা কাটার মেশিনসহ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতির জোগান পেলে আদিবাসী পোশাকসহ অন্যান্য পোশাকও খুব কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, এলাকার আদিবাসী নারীদের তাঁতশিল্প রক্ষায় আমাদের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এখানকার স্থানীয় আদিবাসী নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে তাঁত দিয়ে কাপড় তৈরিতেও পারদর্শী। তাই তাঁতের তৈরি কাপড়কে আকর্ষণীয় করতে কাপড়ে বুটিকের কাজ করাসহ উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি ঋণ দেওয়া হলে এ শিল্পটি ঘুরে দাঁড়াবে।



মন্তব্য