kalerkantho


রপ্তানি ট্রফি পেল ৬২ প্রতিষ্ঠান

ঋণে ৯% সুদহার কার্যকর করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঋণে ৯% সুদহার কার্যকর করতে হবে

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে রপ্তানি পদক গ্রহণ করেন প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা

ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হলেও কোনো কোনো ব্যাংক এখনো তা কার্যকর করেনি। এটি কার্যকর করা না হলে অনেক ব্যবসায়ীই অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেলাপি হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাঁদের অনেকে অসৎ আছে। অনেকে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধায় পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করছে। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু কোনো সৎ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বন্ধ করা যাবে না।

গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জাতীয় রপ্তানি ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। তাঁদের এসব বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি ও সুসংহত করায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৬২টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি দেওয়া হয়েছে।

রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রতিবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি দেয় শীর্ষ রপ্তানিকারকদের। রপ্তানিকারক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে রপ্তানিতে আরো উৎসাহিত করতে সরকার এ স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। প্রতি খাতে সর্বাধিক রপ্তানির জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ ট্রফি দেওয়াসহ ৩২টি খাতে ৩টি করে মোট ৯৭টি ট্রফি দেওয়া হয়। তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৮টি খাতে ৬২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাতীয় রপ্তানি ট্রফি অর্জন করেছে। এর মধ্যে স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে ২৮টি প্রতিষ্ঠান। রৌপ্য ট্রফি ২০টি ও ব্রোঞ্জ ট্রফি পেয়েছে ১৪ প্রতিষ্ঠান। কয়েকটি খাতে আবেদন জমা পড়েনি। আর কয়েকটি খাতে যেসব আবেদন জমা পড়েছিল সেগুলো ট্রফির জন্য বিবেচিত হয়নি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বরের পর অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। সম্প্রতি ব্রাসেলসে সাসটেইনেবিলিটি কম্প্যাক্টের বৈঠক হয়েছে। সেখানে অন্যান্য পক্ষ (ইইউ, আইএলও) অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের মেয়াদ আরো বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। আর বাড়ানো যাবে না। আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৩০ ডিসেম্বরের পর মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরসিসি) এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। অনেক ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন সেখানে। শ্রমিক নিরাপত্তা, ভবনের নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে। আবার গিন ফ্যাক্টরিও বাড়ছে। রানা প্লাজা ধসের পর কোনো পোশাক কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতিতে অনেকেই ঈর্ষান্বিত। যে কারণে অনেক ষড়যন্ত্র আছে। আগামী বছর থেকে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (ইপিজেড) বিনিয়োগকারীদের জন্যও রপ্তানি ট্রফি দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এখন খুবই জরুরি। চামড়া, প্লাস্টিক, ওষুধ খাত যতটা ভালো করার কথা, ততটা করতে পারছে না। এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। সরকার বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহও বাড়বে। তবে জ্বালানির দাম কী হবে—তা স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তা থেকে বের হতে চান। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ কী হবে, তা ব্যবসায়ীরা আগাম ধারণা পেতে চান।

তিনি বলেন, ব্যবসা খাতে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে সে বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা হালনাগাদ তথ্য জানেন না। কাস্টমসও হালনাগাদ নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অনেকে অসৎ আছে। অনেকে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা নিয়ে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করছে। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু সৎ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কেন বন্ধ হবে?

তিনি বলেন, সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক ব্যাংক তা করেনি। এটা নিশ্চিত করা না হলে অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেলাপি হয়ে পড়বেন।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। সরকারকে অবশ্যই বেসরকারি খাতকে সহযোগিতা করতে হবে।

স্বর্ণপদক পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান : ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য খাতভিত্তিক রপ্তানিতে ২৮টি প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ট্রফি পেয়েছে। সব খাতের মধ্যে সেরা রপ্তানিকারক হিসেবে স্বর্ণপদক পেয়েছে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস। আবার খাতভিত্তিক রপ্তানিতেও এ কম্পানি স্বর্ণ ট্রফি অর্জন করেছে। এ ছাড়া এ কে এম নিটওয়্যার, ফকির নিটওয়্যারস, কামাল ইয়ার্ন, এনভয় টেক্সটাইল, নোমান টেরিটাওয়েল, জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস, পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ, আকিজ জুট মিলস, এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও পিকার্ড বাংলাদেশ পেয়েছে স্বর্ণ ট্রফি। আরো রয়েছে বে ফুট ওয়্যার, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং, প্রাণ ডেইরি, রাজধানী এন্টারপ্রাইজ, কারুপণ্য রংপুর, বেঙ্গল প্লাস্টিক, শাইনপুকুর সিরামিকস, ইউনিগ্লোরি সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, বিআরবি কেবল, বিএসআরএম স্টিলস, স্কয়ার ফার্মা, সার্ভিস ইঞ্জিন, আরএম ইন্টারলাইনিংস, মনট্রিমস লিমিডেট, গাজী এন্টারপ্রাইজ ও ফেক্সিনকো।

রৌপ্যপদক পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান : ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য রৌপ্য ট্রফি পেয়েছে ২০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে হা-মীম গ্রুপের রিফাত গার্মেন্টস, জিএসএম কম্পোজিট নিটিং, বাদশা টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এসিএস টেক্সটাইল, মীনহার সি ফুডস, বাবুল জুট ট্রেডিং, জনতা জুট মিলস, ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিন, আর এম এম এম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, ফুটবেড ফুটওয়্যার, হেরিটেজ এন্টারপ্রাইজ, প্রাণ অ্যাগ্রো, ক্যাপিটাল এন্টারপ্রাইজ, ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রডাক্টস, ডিউরেবল প্লাস্টিক, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, প্যাসিফিক জিন্স ও ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং।

ব্রোঞ্জ পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান : ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪ প্রতিষ্ঠান ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনন্ত অ্যাপারেলস, স্কয়ার ফ্যাশন, সুফিয়া কটন মিলস, হামজা টেক্সটাইলস, কুলিয়ারচর সি ফুড (কক্সবাজার), দ্য গোল্ডেন ফাইবার ট্রেড সেন্টার, এবিসি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ, আকিজ ফুটওয়্যার, মনসুর জেনারেল ট্রেডিং, ময়মনসিংহ অ্যাগ্রো, বিডি ক্রিয়েশন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ভিনেটড ডেনিম স্টুডিও এবং জাবের অ্যান্ড জোবায়ের অ্যাকসেসরিজ।

প্রাণ গ্রুপ জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য রপ্তানিতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ—তিনটি ট্রফিই পেয়েছে গ্রুপটি। সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক হিসেবে টানা ১৪ বার সেরা রপ্তানিকারকের পদক পেল এই শিল্পগোষ্ঠী। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘আমাদের ব্র্যান্ডের ওপর বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের আস্থা রাখার জন্য এসব পদক পাওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রাণ সব সময় ক্রেতাদের চাহিদানুয়ায়ী পণ্য তৈরি করে থাকে। সেরা রপ্তানিকারক পদক প্রাপ্তিতে আমরা গর্বিত।’



মন্তব্য