kalerkantho


রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনে অটোমেশনে জোর দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনে অটোমেশনে জোর দিতে হবে

২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আইনকে অনেক বেশি যুগোপযোগী করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পকে নীতি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া অটোমেশনের মধ্যে না আসলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপারস (পিডাব্লিউসি)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন পিডাব্লিউসি বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশীদ। এ সময় বাজেটে বিভিন্ন পরিবর্তনের নানা দিক উপস্থাপন করেন পিডাব্লিউসি ইন্ডিয়ার পার্টনার (ট্যাক্স অ্যান্ড রেগুলেটরি সার্ভিস) সুস্মিতা বসু ও পিডাব্লিউসির ব্যবস্থাপক (ট্যাক্স অ্যান্ড রেগুলেটরি সার্ভিস) প্রবীর মিত্র। এ সময় পিডাব্লিউসির ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের পরিচালক প্রসূন কে মাইতি, সহযোগী ব্যবস্থাপক এস কে আমিনুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামুন রশীদ বলেন, দেশ এগিয়ে নিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সময়ের ব্যবধানে দেশের বেসরকারি খাত আজ একটি পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন সময় এসেছে তাদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে আরো বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

তিনি বলেন, মুনাফার পর উদ্যোক্তারা যেন একটি অংশ বিনিয়োগ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যেই আমরা মুনাফায় বহুস্তর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছিলাম। এবারের বাজেটে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ায় বড় করপোরেটদের জন্য একটা সুযোগ তৈরি হলো। সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বারবার কর দেওয়ার হয়রানি থেকে রেহাই পাবেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থবিলে আইনি সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের অর্থবিলে কম্পানিগুলোকে অনেক বেশি কমপ্লায়েন্সে আনার প্রক্রিয়া দেখা গেছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিরীক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হয়েছে। তবে লক্ষ্য অর্জনে এগুলোর পাশাপাশি কর অফিসের সংস্কার করতে হবে। রাজস্ব পরিশোধের পদ্ধতিটি অনলাইনভিত্তিক করা ও রিটার্ন দাখিল আরো সহজতর করাসহ সব কিছু অটোমেশনের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

মধ্যবিত্তকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করে মামুন রশীদ বলেন, ‘আমাদের দেশের ২৫ শতাংশ লোকের মাথাপিছু আয় ৬৫০ ডলারের বেশি। দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা খুব দ্রুতই বাড়ছে। সরকারকে এ বিষয়টি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করতে হবে। মধ্যবিত্তকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে। তারা যেন শেয়ারসহ বিভিন্ন ইকুইটিতে বিনিয়োগ করে স্বাবলম্বী হতে পারে সে উদ্যোগ নিতে হবে। করের ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা ছাড় দিতে হবে।

আয়কর নিয়ে সুস্মিতা বসু বলেন, বহুস্তরের ট্যাক্স প্রত্যাহারের বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। একই প্রতিষ্ঠানের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। তবে যখন কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লভাংশ ঘোষণা করে তখন লভ্যংশ ঘোষণাকারী ও লভ্যাংশ ভোগী উভয় প্রতিষ্ঠানকেই ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। তখন বিনিয়োগ নিরুৎসাহী হয়। এবার বহুস্তর ট্যাক্সেশন প্রত্যাহার করায় এ জটিলতাটি দূর হবে। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা এ দেশে অর্থব্যয় করলে বা শেয়ার হস্তান্তরে ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। এসব বিষয়ের কারণে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

ভ্যাট নিয়ে প্রবীর মিত্র বলেন, ১৯৯১ সালের বর্তমান ভ্যাট আইনটিতে অনেক জটিলতা রয়েছে। নতুন আইনটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেছে। তবে অনলাইন সিস্টেমটি বাস্তবায়নের রাজস্ব আহরণ বাড়বে। কন্ট্রাক্টরদের আয়ের ওপর উৎসে মূসক বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু খাতে কর বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল উৎপাদনে ভ্যাট ও সারচার্জ প্রত্যাহারের কারণে এ ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ফল আসতে পারে। অর্থবিলের মাধ্যমে কিছু সংস্কার করে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কমপ্লায়েন্স বাড়ানোর প্রচেষ্টা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অটোমেশনে জোর দিতে হবে।

 



মন্তব্য