kalerkantho


কারিগরি সমস্যার কারণে সরবরাহ বিলম্বিত

এলএনজির জন্য অপেক্ষা আরো ২০ দিন

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



এলএনজির জন্য অপেক্ষা আরো ২০ দিন

এক মাস আগে কাতার থেকে এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি নিয়ে একটি বড় জাহাজ কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী উপকূলে ভেড়ে। কিন্তু এখনো সেই জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি (টেকনিক্যাল) সমস্যার কারণে তা এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। এলএনজির সুফল পেতে আরো ২০ থেকে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে গ্রাহককে।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক্সিলেন্স’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি থেকে তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পাইপলাইনে সরবরাহে কারিগরি সমস্যা হচ্ছে। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে কখন এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আশা করছি, আগামী জুন মাসের ১২ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে।

গত ২৪ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দেশে আমদানি হলো এলএনজি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার থেকে আমদানি করা হয়েছে এসব এলএনজি। সেদিন দুপুরে ‘এক্সিলেন্স’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী উপকূলে ভেড়ে।

এলএনজি গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়েজ আহম্মদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এলএনজি ডেলিভারির বিষয়ে গত রবিবার পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। টেকনিক্যাল কারণে সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, আগামী মাসের মাঝামাঝিতে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হবে আমদানীকৃত এলএনজি।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পনি লিমিটেডের (জিটিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইনের কমিশনিং (গ্যাস ঢুকিয়ে সফল পরীক্ষা) এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু আনোয়ারা থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ায় আমদানীকৃত এলএনজি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

কর্মকর্তারা আরো জানান, আমদানীকৃত এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে চট্টগ্রামে তথা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। এতে করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের গ্যাস সমস্যা সমাধান হবে।

পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি সেল) রফিকুল ইসলাম বলেন, সাগরে অবস্থানকারী এলএনজিবাহী জাহাজের মুরিং সাইডে সমস্যা হওয়ায় এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এই কারিগরি সমস্যা দূর করে অল্প কিছু দিনের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা যাবে। তবে কত দিন সময় লাগতে পারে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা আরো জানান, এলএনজিবাহী ‘এক্সিলেন্স’ নামের জাহাজটি উপকূল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সাগরে অবস্থান করছে ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে। ২৭৭ মিটার লম্বা, ৪৪ মিটার প্রস্থ এবং ১২ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের (গভীরতা) এ জাহাজে রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরল গ্যাস। প্রাথমিকভাবে এই জাহাজ থেকেই এলএনজির তাপমাত্রা পরিবর্তন করে ব্যবহার উপযোগী গ্যাসে রূপান্তর করে মহেশখালী দ্বীপে স্টোরেজ ট্যাংকে পাঠানো হবে। এটাকে বলা হচ্ছে ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট।

‘এক্সিলেন্স’ জাহাজটিতে সমুদ্রের পানির উষ্ণতা ব্যবহার করে এলএনজিকে আবার প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করা হবে। এর পর পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথমে চট্টগ্রামে এবং পরে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এলএনজিবাহী জাহাজ ‘এক্সিলেন্স’র স্থানীয় এজেন্ট সিকম শিপিং লাইন্স লিমিটেডের পরিচালক জহুর আহমেদ বলেন, এলএনজি সরবরাহে জাহাজের কোনো সমস্যা নেই। জাহাজটি সাগরে যে স্থানে অবস্থান নিয়ে এলএনজি সরবরাহ করবে সেখানে পাইপলাইনে সমস্যা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দফা পরীক্ষামূলক চেষ্টা চালিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।



মন্তব্য