kalerkantho


কারখানা সংস্কারে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল : মরিয়ার্টি

৮৮ শতাংশ সংস্কারকাজ শেষ করেছে অ্যালায়েন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



৮৮ শতাংশ সংস্কারকাজ শেষ করেছে অ্যালায়েন্স

অ্যালায়েন্সের ত্রৈমাসিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেমস এফ মরিয়ার্টি। ছবি : কালের কণ্ঠ

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোটের সংগঠন অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির নির্বাহী পরিচালক জেমস এফ মরিয়ার্টি। কয়েক বছর ধরে কারখানার মালিক, সরকার এবং ক্রেতাদের প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এর ফলে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে কারখানা সংস্কারে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হয়ে উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ওয়েস্টিন হোটেলে সংগঠনটির প্রথম পাক্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান জেমস এফ মরিয়ার্টি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা পল রাগবি এবং পরিচালক (পরিচালন) কামরুন্নেছা বাবলী।

সাংবাদ সম্মেলনে মরিয়ার্টি বলেন, ‘আমাদের আওতাধীন তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর ৮৮ শতাংশ সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া সংশোধনী কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৩২২টি কারখানা তাদের সব ধরনের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছে। এতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এমন কারখানার ৮৪ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনের ঝুঁকি কমেছে।’

অ্যালায়েন্সের কারখানাগুলোর সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মরিয়ার্টি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়নে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছি। এ ছাড়া আমাদের ঘোষণা অনুসারে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম আস্থাশীল এবং বিশ্বাসযোগ্য একটি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে চাই। সেই সংস্থাটির কার্যক্রম স্থানীয় অংশীদারের নিকট স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠ হবে।’

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। আগামী মে মাসে সেই সময় শেষ হলেও কার্যক্রম গোটাতে বাড়তি ছয় মাস লাগবে বলে জানান জেমস এফ মরিয়ার্টি। সংস্কারকাজে ক্রেতাগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যালায়েন্সের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। আইএফসির মাধ্যমে কম সুদে ঋণ দেওয়ার কথা তিনি জানান।

সংস্কার কার্যক্রমের কারখানাগুলোতে নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অ্যালায়েন্সের পক্ষে ১৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা জরুরি মুহূর্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে মুক্ত এবং নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম। এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি কারখানায় তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই হাজার ৭০০-এর বেশি গার্ডকে জরুরি মুহূর্তে সম্পদ নয়, জীবন বাঁচাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ১৭টি সিকিউরিটি গার্ড প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের। যারা তৈরি পোশাক শিল্পের ভেতরে-বাইরে প্রশিক্ষণ দিতে পারবে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। তখন কর্মপরিবেশ উন্নয়নে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স গঠিত হয়। তাদের প্রকৌশলীরা প্রায় আড়াই হাজার পোশাক কারখানার অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও ভবনের কাঠামোগত পরিদর্শন করে ত্রুটি চিহ্নিত করেন। তারপর তাঁদের অনুমোদিত সংশোধন কর্মপরিকল্পনা (ক্যাপ) অনুযায়ী কারখানাগুলোর ত্রুটি সংশোধন করে।

 



মন্তব্য