kalerkantho


ব্যাংকঋণের সুদের হার বাড়ায় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

এলডিসি থেকে উত্তরণের ধাক্কা আসবে জিএসপিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এলডিসি থেকে উত্তরণের ধাক্কা আসবে জিএসপিতে

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদসহ ব্যবসায়ীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এর ফলে কিছু সুবিধা থাকলেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। আর এর প্রথম ধাক্কা আসবে জিএসপিতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে এক আলোচনাসভায় ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ : স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেখে উত্তরণের অভিযাত্রা’ শীর্ষক এ আলোচনাসভার আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। এ সময় ব্যবসায়ী নেতা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা করণীয় বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, নির্দিষ্ট একটি সময় পর প্রথম ধাক্কা আসবে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপিতে। অর্থাৎ বাংলাদেশ এ সুবিধা হারাবে। এরপর জিএসপি প্লাসের আওতায় রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পেতে হলে মেধাস্বত্ব আইনের বাস্তবায়ন, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার, পরিবেশগত ইস্যু এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি রোধসহ বেশ কিছু বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে। ফলে এখনই এসব বিষয়ে নজর দেওয়া এবং সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করা দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়বে। আন্তর্জাতিকভাবে ঋণ প্রাপ্তি কিংবা বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে। কিন্তু একই সঙ্গে বেশ কিছু সুবিধা হারাতে হতে পারে। এ থেকে উত্তরণে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ করতে হবে। এমপ্লয়ারস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কামরান টি রহমান বলেন, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ করতে না পারলে জিএসপি প্লাসের সুবিধা নেওয়া যাবে না।

ব্যাংকঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘ব্যাংকে সুদের হার বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলব, যাতে ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা যায়।’

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, দেশ এগিয়ে যেতে হলে দক্ষতা অর্জন ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু বিনিয়োগ সেভাবে হচ্ছে না। এটি জিডিপির ২৩ শতাংশে আটকে আছে। ১ শতাংশ বাড়াতে হলে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এই টাকা কোথা থেকে আসবে? বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, আয়কর ৩৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনলে সরকারের রাজস্ব কিছু কমলেও তা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে আলাদা ‘বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়’ ও এসএমই খাতের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান তিনি।

বিদ্যমান ভ্যাট আইনকে অনলাইন করার আড়ালে নতুন ভ্যাট আইন চালু করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘সরকারের মধ্যে একটি গ্রুপ অর্জনকে নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আইনটি দুই বছরের জন্য স্থগিত করেছেন সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে। অথচ অনলাইন করার নামে নতুন ভ্যাটের বেশ কিছু অংশ সংযোজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটি কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না। আমরা আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত।’ বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু বাজার বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন।

এলডিসি উত্তরণের পর এটি টেকসই কি না আগামী ছয় বছরে তা যাচাই করা হবে। এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ছয় বছরে এসব শর্ত পূরণের মাধ্যমে এটিও আমরা উত্তরণ করতে পারব। এ জন্য সরকারের টিম কাজ করছে। ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে কাজ করে আপনাদের মতামত জানাতে পারেন।’

 


মন্তব্য