kalerkantho


শিল্পায়নে আইপিওর গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনার

মূলধন উত্তোলনের দীর্ঘসূত্রতায় পুঁজিবাজারবিমুখ কম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মূলধন উত্তোলনের দীর্ঘসূত্রতায় পুঁজিবাজারবিমুখ কম্পানি

ব্যাংকের ঋণের চেয়ে লাভজনক হলেও মূলধন উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রতায় ইচ্ছা থাকলেও অনেক কম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না। শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় অনেকে আসতেও চায় না। মার্চেন্ট ব্যাংক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে লাভের কথা বুঝিয়ে পুঁজিবাজারে আনার দায়িত্ব নিলেও যথাযথভাবে করতেও পারছে না। শিল্পায়নে পুঁজির জোগান দিতে আইপিও প্রক্রিয়ায় আরো সময় কমিয়ে আনতে হবে। বাজারকে গতিশীল করতে আরো বেশি বেশি কম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে।

গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর ফার্স হোটেলে অনলাইন বিজনেস নিউজপোর্টাল বিজনেসআওয়ার২৪.কম (businesshour24.com) আয়োজিত ‘শিল্পায়নে আইপিওর গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। পোর্টালটির উপদেষ্টা ও ওমেরা অয়েলের সিইও আক্তার হোসেন সান্নামাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও বিএসইসির কমিশনার স্বপন কুমার বালা।

সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ আহসান উল্লাহ ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিটিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আইপিও মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন শিল্পায়ন ও সার্বিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থনীতির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেন, কম্পানি আনতে মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রায় সমান। কিন্তু কেন এত বেশি? এটা কমানো উচিত। আইপিও আনতে কমিশনও ভূমিকা পালন করতে পারে। অনেক কম্পানি কর ফাঁকি দিতেই স্বচ্ছতার মধ্যে আসতে চায় না। পুঁজিবাজারে এলে নিয়মিতই আর্থিক হিসাব দেখাতে হয়, স্বচ্ছতা থাকে।’ আর্থিক কেলেঙ্কারিসংক্রান্ত কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘সুস্থ পুঁজিবাজার গড়তে এখনো আমাদের সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠেনি। ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে করা পুঁজিবাজারে ধস ঘটিয়েছে? সেই শক্তি এখনো পুঁজিবাজারে আছে। এখানে শুভশক্তি অত্যন্ত দুর্বল আর অপশক্তি সবল। ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন বলা হলেও কার্যত হয়নি। স্টেকহোল্ডারদের ৪০ শতাংশ শেয়ার দিয়ে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে।’ ডিএসই ও সিএসইর সদস্যসংখ্যা আরো বাড়ানো ও কমপক্ষে এক হাজার সদস্যে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে তাদের ৯০ শতাংশই ব্যাংকঋণনির্ভর। এতে মূলধন ফেরতের সঙ্গে সুদও দিতে হয়; কিন্তু পুঁজিবাজার সেই তুলনায় অনেক লাভজনক। মুনাফার নির্দিষ্ট অংশ বিনিয়োগকারীকে দিলেও মূলধন ফেরত দিতে হয় না। আর তালিকাভুক্ত হলেও ১০ শতাংশ কর মওকুফ পাওয়া যায়। লাভজনক হলেও কম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে ব্যর্থ হচ্ছি।’ সরকারি কম্পানিকে বাজারে আনার তাগিদ দেন তিনি।

স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘নতুন ইস্যু বা কম্পানি আনতে ৫৯ মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। তবে তারা ইস্যু আনতে পারছে না। প্রত্যেকটি মার্চেন্ট ব্যাংক একটি করে ইস্যু আনলেও অনেক কম্পানি আসত। আর কোনো কম্পানি আনা হলে সেটি ফেলে রাখা হয় না। কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘায়িত হয়। আমরা চেষ্টা করছি ভালো ভালো কম্পানি বাজারে আনতে।’

মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, আইপিও পেতে ফিক্সড প্রাইস ও বুকবিল্ডিং দুই পদ্ধতিতেই দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। এটা কিভাবে কমানো যায় সেই বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আইপিও প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেক কম্পানি আসছে না। ভারতে তিন মাসের মধ্যেই একটি কম্পানি আইপিওতে আসে কিন্তু আমাদের দেশে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগছে। এটা কমিয়ে আনা উচিত।’

 



মন্তব্য