kalerkantho


ব্যাংকিং তথ্য গোপনে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র

বাণিজ্য ডেস্ক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যাংকিং তথ্য গোপনে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে আর্থিক খাতে সবচেয়ে বেশি তথ্য গোপন করে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক ‘আর্থিক গোপনীয়তা সূচক’ প্রকাশ করে। এতে সুইজারল্যান্ডকে ব্যাংকিং গোপনীয়তা রক্ষায় বিশ্বের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তথ্য গোপনের ফলে বিশ্বজুড়ে কর ফাঁকি, মানি লন্ডারিং এবং মাদক চোরাচালান বাড়ছে।

গ্রাহকের তথ্য গোপনে বিশ্বের ১১০টি দেশের র‍্যাংকিং করে এ সূচক প্রকাশ করা হয় গত মঙ্গলবার। এতে দেখা হয় একটি দেশ ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশনের মালিকানায় থাকা ব্যাংক হিসাবের তথ্য কী পরিমাণে সরবরাহ করে। একই সঙ্গে কী মাত্রায় তারা মানি লন্ডারিং আইন মেনে চলে। বেশ কিছু মানদণ্ড ব্যবহার করে এ সূচক তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনটি দুই বছর অন্তর প্রকাশ করা হয়।

তালিকায় আর্থিক গোপনীয়তায় শীর্ষ দশে থাকা বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্যামেন আইল্যান্ড, চতুর্থ স্থানে হংকং, পঞ্চম সিঙ্গাপুর, ষষ্ঠ লুক্সেমবার্গ, সপ্তম জার্মানি, অস্টম তাইওয়ান, নবম সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) এবং দশম স্থানে রয়েছে গুয়ের্নসে। তালিকায় ২৮তম অবস্থানে রয়েছে চীন এবং ৩২তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। এতে বাংলাদেশের নাম আসেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে করস্বর্গগুলোতে ২১ থেকে ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত অর্থ রয়েছে, যার বেশির ভাগই কর দেওয়া হয়নি বা সামান্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে অবৈধ অর্থপ্রবাহ হয় ১-১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। নেটওয়ার্কের পরিচালক জন ক্রিস্টেনসেন বলেন, যদিও অনেক আর্থিক কেন্দ্র বলেছে তারা আরো বেশি স্বচ্ছ হচ্ছে; কিন্তু তাদের তথ্য প্রকাশের বিষয়টি নির্ভর করেছে কে চেয়েছে তার ওপর। তিনি বলেন, ধনী পশ্চিমা দেশগুলো অনুরোধ জানালে তথ্য পায়, কিন্তু আফ্রিকার দেশগুলো পায় না। তার মতে, আর্থিক গোপনীয়তার কারণে মানি লন্ডারিং ও চুরির সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘সব পর্যায়েই কর ফাঁকি চলছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন দেশের অর্থ পদ্ধতিগতভাবেই লুণ্ঠন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নেওয়া অর্থ বিপুল।’

গবেষণায় বলা হয়, পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির পর এসব আর্থিক সেন্টারের ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এতে দেখ যায়, কর স্বর্গে প্রতিষ্ঠিত অনেক কম্পানি মানি লন্ডারিং, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান এবং কর ফাঁকির জন্য ব্যবহার হয়।

বিদেশি সম্পদ জমা রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেন্দ্র সুইজারল্যান্ড। যদিও দেশটি ক্রমান্বয়ে ব্যাংকিং গোপনীয়তা কমিয়ে দিচ্ছে। এ বছর দেশটি অনেক বিদেশি কর সংস্থার কাছে তাদের গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবের গোপনীয় তথ্য পাঠিয়েছে। তথ্য গোপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। রয়টার্স।

 



মন্তব্য