kalerkantho


বেনাপোলে ফোল্ডার পদ্ধতি চালু

আমদানি-রপ্তানিতে গতি বাড়ার আশা

বেনাপোল প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমদানি-রপ্তানিতে গতি বাড়ার আশা

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাসে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে শুল্কায়নে প্রথমবারের মতো ফোল্ডার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ পদ্ধতির ফলে অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নতুন প্রবর্তিত ফোল্ডার পদ্ধতি সম্পর্কে শুল্কায়ন গ্রুপের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল বুধবার একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. বেলাল হোসাইন চৌধুরী। তিনি কর্মশালায় ফোল্ডার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও  প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।

ফোল্ডার ব্যবস্থা চালুর ফলে বেনাপোলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা বন্দর থেকে দ্রুত মালপত্র খালাস করতে পারবে, অন্যদিকে দেশের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। জানা গেছে, গত ৪০ বছর ধরে বেনাপোলে আমদানি চালানে শুল্কায়ন নথির মাধ্যমে হতো। এতে শুল্কায়নে বেশি সময় লেগে যেত এবং পণ্য খালাসে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হতো। এখন নথির পাশাপাশি প্রযোজ্য ও অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে ফোল্ডারের মাধ্যমে শুল্কায়নপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এতে আমদানি-রপ্তানি কর্মকাণ্ডে গতি আসার পাশাপাশি কাস্টম হাউসের সামগ্রিক রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যবান্ধব ও জনবান্ধব শুল্কায়ন পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. বেলাল হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। ফোল্ডার পদ্ধতির আওতাভুক্ত চালান রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী বা ডেপুটি কমিশনার পর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে শুল্কায়িত হবে।

রাজস্ব আহরণের গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্য সহায়তাকরণ, অপবাণিজ্য প্রতিরোধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গত এক মাসে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বেনাপোল কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। চলমান সংস্কার ও উদ্ভাবনা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ী ও অংশীজনের সহায়তা চেয়েছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, এত দিন ফাইল ব্যবস্থা থাকার কারণে আমদানি-রপ্তানিকারকদের একটি ফাইল কমিশনার পর্যন্ত আসতে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত। এখন ফোল্ডার ব্যবস্থা চালুর ফলে কমিশনারের টেবিল পর্যন্ত একটি ফাইল আসতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। এতে দ্রুত পণ্য খালাস হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে রাজস্ব আয়।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, এ পদক্ষেপের ফলে বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাস করা সম্ভব হবে। এটি দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল।



মন্তব্য