kalerkantho


শুদ্ধি অভিযানে গতিশীল বেনাপোল বন্দর

বাড়ছে আমদানি রপ্তানি ও রাজস্ব

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শুদ্ধি অভিযানে গতিশীল বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল বন্দরে অনিয়ম ও ভোগান্তি কমে আসছে

বেনাপোল বন্দরে অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পরপরই গতিশীলতা ফিরে এসেছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে রাজস্ব আদায়। এর আগে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে গত ৪ নভেম্বর বেনাপোল বন্দর থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয় নিটল টাটা ও ইফাদ অটো গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বড় কম্পানি। তারাও এখন ফিরতে শুরু করেছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসে নতুন কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী যোগ দেওয়ার পরপরই শুরু হয় অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে শুদ্ধি অভিযান। এতে বেশ কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তাকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে সতর্ক করা হয়, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন আমদানিকারককেও মুচলেকা দিয়ে ছাড় নিতে হয়েছে পণ্য চালান। বেনাপোল আন্তর্জাতিক কাস্টমস চেকপোস্টে বন্ধ হয়েছে লাগেজ পার্টির চোরাচালানির তত্পরতা। দিনের শুল্ক দিনে আদায় করতে দ্রুত পণ্য খালাশের নির্দেশনা দেওয়ায় বেড়ে গেছে অফিসারদের কর্মতত্পরতা।

নতুন কমিশনার যোগ দেওয়ার পরপরই মাত্র ২২ দিনে গোটা কাস্টমস ও বন্দরের আকস্মিক পরিবর্তনে চলে যাওয়া ব্যবসায়ীরা ফিরে আসতে শুরু করেছে। গত ১২ ডিসেম্বর নিটল টাটা ও ইফাদ অটো গ্রুপ তাদের মোংলা বন্দরের এলসি বাতিল করে বেনাপোল বন্দরে নতুন করে এলসি দিয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, দিনের শুল্ক দিনে আদায়ের প্রক্রিয়া বেড়ে ৩২ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। তা ছাড়া গত ৪ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে ৮ হাজার ৩৮ ট্রাক মালপত্র আমদানি হয়। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২৬ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বের পর্যন্ত ৮ হাজার ৪৪৪ ট্রাক মালপত্র আমদানির বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে এই বন্দর দিয়ে।

বর্তমানে বন্দরে জায়গা সংকট একটি বড় ধরনের সমস্যা বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। বেনাপোল বন্দরে পণ্য ধারণক্ষমতা ৩০ লাখ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে বন্দরে ঠাসাঠাসি করে ১ লাখ মেট্রিক টন পণ্য রাখা হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি বৃদ্ধি পেলেও জায়গার অভাবে বন্দরে পণ্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, গত ৩০ বছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসে হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে কেউ এগিয়ে আসেনি। নতুন কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী যোগদানের মাত্র ২২ দিনের মাথায় গোটা কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমে ফিরে এসেছে স্বচ্ছতা। রাজম্ব আদায়ে যেখানে বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করেছিল, মাত্র কয়েক দিনে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ফিরে এসেছে গতিশীলতা, বাড়তে শুরু করেছে রাজস্ব আয়।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, কাস্টম হাউসে অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাসেরও নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, মোবাইল স্ক্যানার বসানো হয়েছে এবং আমদানীকৃত পণ্য স্ক্যানিং করে দ্রুত খালাস দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে বন্দরে পণ্যজট কমে আমদানি বাড়বে।



মন্তব্য