kalerkantho


চার স্থলবন্দর উন্নয়নে ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চার স্থলবন্দর উন্নয়নে ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের বাণিজ্যসংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, পদ্ধতিগত আধুনিকায়নে ১৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটি সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বাণিজ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযোগ বাড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম এই ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প-১-এর আওতায় ঋণের ১৫ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। এতে বাংলাদেশের ভোমরা, শেওলা, রামগড় ও বেনাপোল স্থলবন্দরের উন্নয়ন করা হবে। এই চারটি স্থলবন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ট্রানজিটের ক্ষেত্রে মূল বন্দর হিসেবে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে এই বন্দর চারটি গুরুত্বপূর্ণ। এসব বন্দরের উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়বে, সীমান্তের চেকপোস্টে ট্রাক ক্লিয়ারেন্সে সময় কম লাগবে। উদাহরণ হিসেবে, ভোমরা স্থলবন্দরে ট্রাক ক্লিয়ারেন্সের জন্য সময় কমবে ৮৩ শতাংশ। বর্তমানে এখানে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে, যা ১২ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফান বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সেই সুযোগের মাত্র অর্ধেক পরিমাণ বাণিজ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের বাধাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বড় বাধা পরিবহন ও ক্লিয়ারেন্সে অতিরিক্ত সময় ব্যয়। পণ্যের বহুমুখিতা ও উচ্চ মূল্যের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের উদীয়মান ও গতিশীল বাজারে আরো প্রতিযোগী সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। এ পদ্ধতিতে আমদানি-রপ্তানি করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নথি বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে জমা দেওয়ার বদলে ইলেকট্রনিক গেটওয়ের মাধ্যমে একটি মাত্র দপ্তরে জমা দেবেন। ফলে নথিপত্র নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরির দরকার হবে না। এতে সময় কম লাগবে। স্বচ্ছতা বাড়বে ও বেসরকারি খাতের খরচ কমবে।

ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব দ্বিগুণ হয়েছে। গত ৫ বছরে রপ্তানি পণ্যের মূল্য বিবেচনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ট্রানজিট কান্ট্রি হিসেবে আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই প্রকল্প বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে ও আমদানি খরচ কমাতে সহায়ক হবে।


মন্তব্য