kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে মরিয়ার্টি

শতভাগ ত্রুটি সংশোধন করেছে ২৩৪ কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শতভাগ ত্রুটি সংশোধন করেছে ২৩৪ কারখানা

তৈরি পোশাক কারখানাগুলো সংস্কার শেষে স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করলেন উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির নির্বাহী পরিচালক জিম মরিয়ার্টি। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর সংস্কার ইস্যুতে ক্রেতারা যেকোনো বোঝাপড়া কারখানার মালিকদের সঙ্গেই করবেন।

গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়ে বক্তব্য দেন অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি। রাজধানীর গুলশানের হোটেল লং বিচে এই সংবাদ সম্মেলনে গত চার বছরে অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানার সংস্কারের অগ্রগতি বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে যোগ হওয়া কিছু কারখানা ছাড়া অ্যালায়েন্সের সব কারখানাই সংস্কার কর্মপরিকল্পনা (ক্যাপ) অনুযায়ী সংশোধন সম্পন্ন করার পথে রয়েছে। ফায়ার ডোর স্থাপন, কলাপসিবল গেট অপসারণসহ এ পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ক্যাপ অনুযায়ী শতভাগ ত্রুটি সংশোধন করেছে ২৩৪টি কারখানা। অন্যদিকে সংস্কার অগ্রগতি ব্যর্থতার কারণে ১৬২টি কারখানার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে।

মরিয়ার্টি বলেন, অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানাগুলো এখন অনেকটাই নিরাপদ। ২০১৩ সালের পর কারখানার মালিকরা যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তার সুফল এখন তাঁরা পাচ্ছেন। অথচ কাজ শুরু করার আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ছিল ট্র্যাজেডিতে জরাজীর্ণ।

সেখানে নিরাপত্তার বিষয়গুলো মালিকদের কাছে অবাক হওয়ার মতোই ছিল।

তিনি আরো বলেন, গত চার বছরে অ্যালায়েন্স সফলভাবে কারখানা পরিচালনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা সরকার এবং স্থানীয় অংশীদারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে এই অর্জনটি টেকসই হয় এবং বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা পরিচালিত হয়। তিনি আশা করেন, সংস্কার অগ্রগতি ধরে রাখতে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখা এবং তা অব্যাহত রাখাকে অগ্রাধিকার দেবেন কারখানা মালিকরা।

মরিয়ার্টি বলেন, অ্যালায়েন্স দায়িত্ব নেওয়ার পর কাঠামোগত সংস্কার ছাড়াও শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হেল্প লাইনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা যেকোনো প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন তাঁরা। পছন্দের নেতাকে ভোট দিয়ে সেফটি কমিটি গঠনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটি কারখানায় নিরাপত্তার বিষয়গুলো তদারকির অধিকার ভোগ করছে। কারখানা ব্যবস্থাপকদের জন্য নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা হচ্ছে নিয়মিত। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি একটি কোর্স চালু করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী স্কট লারসেল, উপপরিচালক পল রিগবি এবং পরিচালক কামরুনেসা বাবলি উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য