kalerkantho


দুর্নীতিবিরোধী অভিযান

সৌদি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

বাণিজ্য ডেস্ক   

৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সৌদি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

রাজনৈতিক উত্তেজনায় দুই বছরে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রিয়াদের গ্লিটজি রিটজ কার্লটন হোটেলে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশ্বের বড় বড় ব্যবসায়ীসহ তিন হাজার প্রতিনিধি। যেখানে সৌদি আরবকে একটি বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সে হোটেলটিই এখন সাময়িক কারাগারে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ধনী ও বিলিয়নেয়ার প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল এবং অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মন্ত্রীকে এখানেই রাখা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যাপক দরপতনে কয়েক বছর ধরেই রাজস্ব ঘাটতিতে ভুগছে সৌদি আরব। এতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে ইয়েমেন হামলায় সমরাস্ত্র ক্রয়ে বিপুল অঙ্কের ব্যয়। এ অবস্থার উত্তরণে দেশকে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে আনার রূপকল্প ২০৩০ ঘোষণা করেছিলেন যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। কিন্তু সব কিছুই যেন ভেস্তে যেতে বসেছে দেশটিতে দুর্নীতি দমনের নামে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায়। যাঁরা সৌদি আরবের নতুন অর্থনীতি গড়ার কারিগর হিসেবে বিবেচিত তাঁরা এখন কারাগারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব আটকের ঘটনা যতটুকু না দুর্নীতির কারণে তার চেয়ে বেশি যুবরাজের রাজনৈতিক অভিলাষ থেকেই। ফলে দেশটিতে নতুন অর্থনীতি গড়ার যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তা এখন পথ হারাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযানে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের অনেকেই সৌদি আরবের শীর্ষ ব্যবসায়ী। কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবে তেলের বাইরে অর্থনীতি গড়তে তাঁরাই কাজ করছিলেন। ফলে শীর্ষ ব্যক্তিদের আটকের কারণে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে কিংবা থেমে যেতে পারে। যা হবে মন্দার দিকে যাওয়া সৌদি অর্থনীতির জন্য একটি বজ াঘাত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি আরবের এক অর্থনীতিবিদ বলেন, গেমের নিয়ম পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুত। ফলে যাঁরা এত দিন নিজেদের সরকারের কাছের ভেবেছেন তাঁরা জানেন না কাল কী হবে। এ অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষতিকর হবে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের অনেক ব্যবসায়ী এখন তাঁদের অর্থ অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে আল ওয়ালিদ বিন তালালের গ্রেপ্তার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় আঘাত হবে। কারণ বিন তালালের মালিকানাধীন কিংডম হোল্ডিং সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। এ কম্পানির শেয়ার রয়েছে ইউরো ডিজনি থিম পার্ক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, রুপক মারডকের নিউজ করপোরেশনসহ আরো বেশ কিছু কম্পানিতে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মিডিয়া, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ কম্পানির বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। যা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে, দরপতন ঘটছে শেয়ারবাজারেও।

সৌদি আরবের রাজস্ব আয়ের ৯০ শতাংশ আসে তেল রপ্তানি থেকে। কিন্তু তেলের দর ১১৪ ডলার থেকে ক্রমান্বয়ে ৫০ ডলারের নিচে নেমে যাওয়ায় দেশটির রাজস্ব আয়ে ধস নামে। দেশটির পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরবের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ০.৫ শতাংশ। এ প্রান্তিকে জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৬৪৩ বিলিয়ন রিয়াল (১৭০ বিলিয়ন ডলার)। যদিও এক বছর আগে এ সময়ে জিডিপি ছিল ৬৪৬.৪ বিলিয়ন রিয়াল।

দেশটির পরিসংখ্যান দপ্তর জানায়, প্রথম প্রান্তিকে তেল ও গ্যাস খাত সংকুচিত হয়েছে ২.৪ শতাংশ। এ বছর দেশটির রাজস্ব ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫৩ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, এ বছর সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধি আসবে ০.১ শতাংশ। যা হবে ২০০৯ সালের পর থেকে দেশটির সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। তবে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক ধরপাকড়ের এ ঘটনায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট বেড়ে হয় ৫৭.২৪ ডলার। ব্রেন্ট তেলের দাম সাত সেন্ট বেড়ে হয় ৬৪.২০ ডলার। যা দুই বছরে সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালের জুনে জ্বালানি তেলের এ দাম উঠেছিল। রয়টার্স, এএফপি।



মন্তব্য