kalerkantho


অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানি বাড়ছে

মোশতাক আহমদ   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানি বাড়ছে

দেশে অব্যাহতভাবে বাড়ছে অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানি। এতে বৈধ আমদানিকারকদের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে কমছে সরকারের রাজস্ব, প্রতারিত হচ্ছে ভোক্তারাও। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানির ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লেও মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই এ শিল্পে নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে আরো নজরদারি প্রয়োজন। সম্প্রতি বিআরটিএ ও পুলিশের অভিযানে অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানির বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছে। আবার আমদানি শুল্ক কম দেখিয়ে আনা মোটরসাইকেলের কারণে রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

ভারতের ডলফিন মোটরস থেকে জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ডের দুটি মডেলের ২৪টি মোটরসাইকেল আমদানি করে রাজধানীর বড় মগবাজারের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটির জন্য যথাক্রমে ৮৫৫ ও ৯৬৫ ডলার আমদানি মূল্য প্রদর্শন করে শুল্ক প্রদান করে। প্রকৃতপক্ষে মোটরসাইকেলের প্রতিটির মূল্য যথাক্রমে এক হাজার ৬০ ও এক হাজার ১৫০ ডলার।

ফলে প্রায় ১২ হাজার ডলার রাজস্ব কম দিয়ে দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে তাদের ২৪টি মোটরসাইকেল। আবার এই ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আমদানির জন্য বৈধ কোনো ডিলারও নয় ওই প্রতিষ্ঠানটি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে আড়াই লাখ করে মোটরসাইকলে আমদানি হলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে প্রায় চার লাখ। বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলারস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএএমএ) তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে বিপণনকৃত মোটরসাইকেলের প্রায় ৮৬ শতাংশই আমদানীকৃত। ১৪ শতাংশ বাজার দখলে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রানারসহ আরো কয়েকটির দখলে। মোটরসাইকেলের বাজারে অবৈধ আমদানিকারকদের কারণে বৈধ আমদানিকারকও ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে বিএমএএমএর কোষাধ্যাক্ষ ও টিভিএস মোটরসাইকলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অব অপারেশন বিপ্লব কুমার রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈধ আমদানিকারকরা সঠিক মূল্য প্রদর্শন করে দেড় শ শতাংশের বেশি শুল্ক প্রদান করে একটি মোটরসাইকেল আমদানি করে। কিন্তু অবৈধ আমদানিকারকরা কম মূল্য দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের প্রতারিত করছে। তাই মোটরসাইকেল আমদানির শুরুতেই এ ধরনের আমদানি বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে বর্ডার ও শুল্ক প্রক্রিয়াকরণের সময় কাস্টম কর্তৃপক্ষ শক্তিশালীভাবে যাচাই-বাচাই করলে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে পারবে না। তা ছাড়া দেশের ভেতর অবৈধভাবে প্রবেশকৃত মোটরসাইকেল পুলিশের কাছে ধরা পড়ছে, পরবর্তী সময়ে নিলাম করে বৈধতা দেওয়ার যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সে প্রথাটিও বাতিল করতে হবে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অবৈধভাবে আমদানীকৃত এসব মোটরসাইকেলে কম দাম দেখিয়ে রাজস্ব কম দেওয়া হচ্ছে। আবার প্রচলিত মডেল না হওয়ার কারণে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে প্রতারিত হচ্ছে ভোক্তারা। প্রথমত, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে মোটরসাইকেলটি। অন্যদিকে সার্ভিস নেওয়ার সময় সঠিক সময়ে সঠিক সার্ভিসটি পাচ্ছে না। এমনকি প্রচলিত মডেল না হওয়ার কারণে সঠিক যন্ত্রাংশও পাওয়া যাচ্ছে না। কেননা বৈধ ডিলাররা তাদের সার্ভিস পয়েন্টে এলে গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর মিলিয়ে দেখে তারপর সার্ভিস দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে অবৈধ পথে আসা এসব গাড়ি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রান্সপোর্ট) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, অবৈধ মোটরসাইকেলের আমদানি কয়েক বছরে বেশ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ ধরনের মোটরসাইকেল প্রচুর জব্দ করা হচ্ছে। অনেক সময় অনুমোদনের চেয়ে বেশি গতির মোটরসাইকেলও আনা হচ্ছে। এসব মোটরসাইকেল দিয়ে অপরাধমূলক কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। আর পরবর্তী সময়ে অপরাধমূলক কার্যক্রম হলে চিহ্নিত করতে অসুবিধায় পড়তে হয়।

জানা গেছে, আমদানীকৃত মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রি করতে হলে বিল আব এন্ট্রি, অ্যাসেসমেন্টে নোটিশ, গেট পাস, সিকেডি অনুমোদন, কমার্শিয়াল অনুমোদন ও এলসি কপি সংযুক্ত করতে হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন হলে এর পাশাপাশি ভোটার আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ঠিকানা প্রমাণের জন্য বিদ্যুৎ অথবা গ্যাস বিলের কপি দিতে হয়।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি মিরপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল কবীর বলেন, ‘সঠিক নিবন্ধন ছাড়া মোটরসাইকেল রাস্তায় চলাটা বেআইনি। এ জন্য যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন করা হচ্ছে। আমদানীকৃত মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কাস্টম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে চেসিস নম্বরসহ অন্য বিষয়গুলো চেক করা হয়। এতে অনেক সময় অবৈধ আমদানিকারকরা ধরা পড়ে।


মন্তব্য