kalerkantho


পিআরআইয়ের বিনিয়োগ সংলাপে ব্যবসায়ীরা

এফডিআইয়ের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এফডিআইয়ের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন নয়

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগকারীদের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। এ জন্য বিনিয়োগ নীতিমালা সংস্কারেরও দাবি করেছেন তাঁরা।

একই সঙ্গে বছরের পর বছর আলোচনার পরও ব্যবসা করার সূচকগুলোতে দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন : নীতি সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা মান্ধাতা আমলের আইন এবং বিধি সংস্কারে রেগুলেটরি রিফর্মস কমিশনের মতো একটি সংস্থা গঠনের দাবি জানান। বিনিয়োগ বোর্ড এবং বেসরকারীকরণ কমিশন এক করে গঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যেন আগের মতোই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় সেই দাবি তোলেন ব্যবসায়ীরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। বিডাই উদ্যোক্তাকে বলে দেবে কিভাবে টেলিফোন সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ইত্যাদি পাওয়া যাবে। তবে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে লক্ষ্য নিয়েছে তা অর্জনে বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি। শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর ভর করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এত দিন বিদ্যুৎ উত্পাদন বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। এখন মেয়াদ উত্তীর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিক করা হবে। বিনিয়োগ গতিশীল করতে করসহ অন্যান্য খাতে সংস্কার করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বিশেষ অতিথি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, বিডা শুধু এফডিআই নয়, সামগ্রিক বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করছে। বিনিয়োগ উন্নয়নের জন্য সেবার মান বাড়ানো ও নীতিতে সংস্কার আনা হবে। এফডিআই বিষয়ে সর্বোচ্চ শিথিলতা দেখানো হবে। তিনি জানান, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশিদের ভিসা সহজ করার জন্যই পাসপোর্ট ও ই-ভিসা পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মূল প্রবন্ধে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে সেবার মান বাড়াতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ডুয়িং বিজনেস র‌্যাঙ্কিংয়ে এগোতে হবে। বিডা ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন করতে যাচ্ছে, সেই আইন হতে হবে প্রকৃত ওয়ান স্টপ সার্ভিসের জন্য। অপ্রয়োজনীয় বিধি-বিধান বাদ দিতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিডার পলিটিক্যাল উইল থাকতে হবে। বিডা স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। গোষ্ঠীস্বার্থের বাইরে থাকতে হবে। তিনি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য জমির অপ্রতুলতা দূর করা, জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানো, অবকাঠামো দুর্বলতা দূর করা ও নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। নাসিম মঞ্জুর বলেন, এফডিআইয়ের জন্য মানসিকতা বদলাতে হবে। কোন দেশ থেকে কী রঙের (কালো না সাদা) অর্থ আসছে সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে কোন খাতে বিনিয়োগ হবে, কত কর্মসংস্থান হবে সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও মরিশাস থেকে বিনিয়োগ আসছে ভারতে। বাংলাদেশের সে ক্ষেত্রে অসুবিধা কোথায়? এফডিআই বাড়ানোর জন্য তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ আছে এমন বহুজাতিক কম্পানিকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নিয়োগ করা এবং নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সমঝোতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, পাকিস্তান, মিয়ানমারের সার্বিক অবস্থা বাংলাদেশের তুলনায় খারাপ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বেশি এফডিআই কেন যাচ্ছে তা ভাবতে হবে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরতে হবে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও আবরার এ আনোয়ারও বিদেশে অর্থ পাঠানোর জটিলতা দূর করার প্রস্তাব দেন। বিল্ডের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, মোনেম লিমিটেডের আব্দুল গফুর, সাবেক বাণিজ্যসচিব সোহেল আহমেদ, বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, আইএফসি মাশরুর রিয়াজ, বেজার এমদাদুল হক, আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মঈনুদ্দিন মোনেম প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য