kalerkantho


নীতিমালার খসড়া করছে মন্ত্রণালয়

বীমার আওতায় আনা হবে দুগ্ধ খামারিদের

শওকত আলী   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বীমার আওতায় আনা হবে দুগ্ধ খামারিদের

দুগ্ধশিল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে নীতিমালাটি তৈরি হচ্ছে

ধারাবাহিকভাবে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। এর জন্য চাষিদের বাড়তি সুবিধা ও নীতি সহায়তা দেওয়া হবে।

এরই অংশ হিসেবে দেশের দুগ্ধ খামারিদের বীমা সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৬-এর খসড়ায়। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হয়ে গেলে খামারিদের সরকারি ও বেসরকারি বীমা কম্পানিগুলোর মাধ্যমে এ সুবিধা প্রদান করা হবে বলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য মতে, দেশে দুধের চাহিদার বিপুল ঘাটতি মেটাতে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়নে সরকার এই নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ঘাটতি পূরণ করতে হলে দুগ্ধ খামারিদের সুরক্ষা এবং নতুন খামার স্থাপনে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বীমার আওতাভুক্ত করা হবে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বেশ কিছু রোগ আছে যাতে পশু মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পশু লালন-পালনে নিরুৎসাহিত হন খামারিরা। তাদের বীমা সুবিধা দিতে পারলে নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বীমা পলিসি থাকার করণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। সুবিধাটি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে দেশে দুগ্ধ খামারির সংখ্যা অনেক বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে এখন পর্যন্ত দুগ্ধশিল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। এ কারণেই নীতিমালাটি তৈরি হচ্ছে। এখানে সার্বিক উন্নয়নের জন্য ‘জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে দুধের বাজার মনিটরিং করা হবে। এর পাশাপাশি গঠন করা হবে ‘জাতীয় দুগ্ধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান’। এ ছাড়া কৃষি সেক্টরের মতো দুগ্ধশিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমদানি না করে কেউ যদি দেশীয়ভাবে এসব যন্ত্রপাতি তৈরি করতে চায়, তবে তাদেরও সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।  

জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৬-এর খসড়া তৈরির পর এখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিচ্ছে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড গঠনের জন্য আলাদা একটি আইনের খসড়া প্রণয়নের কাজও করছে মন্ত্রণালয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আইনুল হক বলেন, জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালার একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খসড়া এ নীতিমালায় দুগ্ধ খামারের সুরক্ষা ও খামারিদের সহায়তার কথা চিন্তা করে বীমা সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বীমা কম্পানিগুলো কাজ করবে বলে জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দুই কোটি ৩১ লাখ ২১ হাজার গরু, ১৩ লাখ ৯৪ হাজার মহিষ এবং দুই কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ছাগল ও ৩০ লাখ ৮০ হাজার ভেড়া রয়েছে। কিন্তু এসব পশুর সুরক্ষায় দেশে কোনো বীমা চালু নেই। কোনো বীমা কম্পানির পক্ষ থেকে তাদের বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এসব পশু থেকে বর্তমানে বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ৬০ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন, যা দিয়ে দেশে দুধের চাহিদা পূূরণ হচ্ছে না। এখনো দুধের চাহিদার বেশির ভাগই আমদানি করতে হচ্ছে। তাই পশু ও খামার দুটোর বিষয়ে আলাদা আলাদাভাবে বীমা পলিসির আওতায় আনা হবে।

দুগ্ধনীতির খসড়া অনুযায়ী দেশে বর্তমানে (২০১৫-১৬ অর্থবছরে) দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ৭২ লাখ টনের কিছু বেশি। যেখানে মোট চাহিদা ১৪৭ লাখ টন।

ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৫ লাখ টন।


মন্তব্য