kalerkantho

টাওয়ার কম্পানির শেয়ার বিক্রি

২১৫ কোটি টাকা মুনাফা রবির

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২১৫ কোটি টাকা মুনাফা রবির

২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ৯৬ কোটি টাকা লোকসান সত্ত্বেও বছর শেষে রবির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২১৫ কোটি টাকা। টাওয়ার কম্পানির শেয়ার বিক্রি করেই এ মুনাফা পেয়েছে অপারেটরটি। ২০১৬ সালে একীভূত হওয়ার পর একীভূত কম্পানি হিসেবে এই প্রথম মুনাফার দেখা পেল রবি।

২০১৮ সালের শেষে রবির মোট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৬৯ লাখে, যা দেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের ২৯.৯ শতাংশ। তাদের মধ্যে ৬০.৪ শতাংশ বা দুই কোটি ৮৩ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

চতুর্থ প্রান্তিকের এক হাজার ৭৬৪ কোটি টাকাসহ ২০১৮ সালে রবির মোট আয়ের পরিমাণ ছয় হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। তৃতীয় থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধির হার ০.৭ শতাংশ। ২০১৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রবির মোট আয় ৫.১ শতাংশ কমেছে।

২০১৮ সালে তৃতীয়র তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে ভয়েস কল থেকে রবির আয় ১.১ শতাংশ কমেছে। তবে ২০১৭ সালের চতুর্থর তুলনায় ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ভয়েস থেকে আয় ১১ শতাংশ বেড়েছে। ৪.৫জি নেটওয়ার্কের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ডাটা থেকে আয় ১৪.৯ শতাংশ এবং পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় আয় ৬.৯ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ২৮.১ শতাংশ মার্জিনসহ রবির ইবিআইটিডিএ দাঁড়িয়েছে ৪৯৬ কোটি টাকা, যা একই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৫.৭ শতাংশ বেশি। পার্সেন্টেজ পয়েন্টের (পিপি) হিসেবে ২০১৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ ১ দশমিক ৩ পিপি এবং পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ পিপি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের ৬৭৫ কোটি টাকাসহ পুরো বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকা জমা দিয়েছে রবি। এ নিয়ে ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে মোট জমার পরিমাণ ২৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা।

নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রবির মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৮৬ কোটি টাকা। এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হওয়ায় ২০১৮ সালের মোট মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৮ কোটি টাকায়। রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘৪.৫জি সেবায় ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে ডাটা থেকে রাজস্ব বেড়েছে। কিন্তু ওভার-দ্য-টপ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ভয়েস সেবা থেকে যে রাজস্ব কমছে ডাটা সেবায় মাত্রাতিরিক্ত প্রতিযোগিতা থাকায় সে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন তারা যেন টেলিযোগাযোগ খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ডাটা সেবার ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজারে দুটি ব্র্যান্ড একসঙ্গে পরিচালনা করার যে কৌশল আমরা হাতে নিয়েছিলাম তা সফল হওয়ায় ব্র্যান্ডের অবস্থান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ৪.৫জি নেটওয়ার্কের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে যেসব এলাকায় আমরা ব্যাবসায়িক অগ্রগতিতে কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম সেসব এলাকাতেও লক্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছি আমরা।’ দেশের একমাত্র অপারেটর হিসেবে ভোল্টি ও ফাইভজি সেবার পরীক্ষা চালিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রবি।

মন্তব্য