kalerkantho

উদ্যোক্তা
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী বললেন

বেশি আয়ের পূর্বশর্ত বেশি শ্রম

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেশি আয়ের পূর্বশর্ত বেশি শ্রম

গিনা রিনেহার্ট, নির্বাহী চেয়ারম্যান, হ্যানকক প্রসপেক্টিংয়

করপোরেট জগতে নারীরা যদি পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যেতে চায় তবে তাদের আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নারীদের এমন পরামর্শ দিলেন অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী গিনা রিনেহার্ট। ব্যাবসায়িক সাফল্যে যিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ। নারী-পুরুষ সব শ্রেণির মানুষের কাছে আদর্শ।

গিনা রিনেহার্ট খনি অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রতিষ্ঠান হ্যানকক প্রসপেক্টিংয়ের নির্বাহী চেয়ারম্যান। তাঁর নেট সম্পদ ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী তিনি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী। তাঁর সম্পদের বেশির ভাগ এসেছে লোহার খনি ব্যবসা থেকে। ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী তিনি বিশ্বের ৬৯তম বিলিয়নেয়ার। ৩০তম প্রভাবশালী নারী। ২০১২ সালে তাঁর সম্পদ বেড়ে ২৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল। ওই সময় তিনি বেশ্বের শীর্ষ ধনী নারী হন।

১৯৯২ সালে বাবা ল্যাং হ্যানককের মৃত্যুর সময় তাঁর প্রতিষ্ঠান হ্যানকক প্রসপেক্টিং ছিল ঋণ দেউলিয়া। পুরো সম্পত্তিই ছিল বন্ধক বা মামলায় আটকানো। ওই সময়ে হ্যানকক প্রসপেক্টিংয়ের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। এমন কঠিন অবস্থায় উত্তরাধিকার হিসেবে কম্পানির দায়িত্ব নেন গিনা রিনেহার্ট। পরিশ্রম আর ধৈর্যের মধ্য দিয়ে কম্পানিটিকে বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যবসায় রূপান্তর করেন। বর্তমানে হ্যানকক প্রসপেক্টিংয়ের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ২২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা আগের চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি। এর পাশাপাশি তিনি কৃষিসহ আরো বিভিন্ন খাতে ব্যবসা বিস্তৃত করেন। তিনি বেশ কিছু গবাদি পশুর খামার গড়ে তোলেন। কারো সন্দেহ নেই গিনা রিনেহার্ট ব্যাবসায়িক সাফল্যে তাঁর বাবাকে অতিক্রম করে গেছেন।

সম্প্রতি ডেইলি টেলিগ্রাফে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ধনকুবের বলেন, ‘যখন আমার কাছে কেউ পরামর্শ চায়, আমি নারীদের উদ্দেশ্যে বলি, যদি তুমি আরো এগিয়ে যেতে চাও তোমাকে মধ্যাহ্ন বিরতির সময়েও কাজ করতে হবে, অফিস শেষেও কাজ করতে হবে। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হবে। কারণ তোমাকে প্রমাণ করতে হবে যে পদে তুমি উন্নীত হতে চাও তুমি তার যোগ্য।’ তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নারীদের কোটার ওপর নির্ভর করলে চলবে না।

তিনি বলেন, একজন নারী যদি নির্বাহী পদ চায়, তবে তাকে অতিরিক্ত কাজ করতে হবে। সহকর্মীদের চেয়েও বেশি কাজ করতে হবে। ৬৫ বছরের এ ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার এমন সময় যায়নি কখনো যখন কাজ করিনি। যারা বেশি অর্থ চায় তাদের অবশ্যই কাজে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে।’ রিনেহার্ট বলেন, একজন কোটিপতি হওয়ার জন্য একচেটিয়া কোনো সুযোগ নেই। যদি অন্যের অনেক টাকা-পয়সা দেখে তুমি ঈর্ষাকাতর হও তবে অভিযোগ-অনুযোগ না করে পরিশ্রম কর যাতে নিজের জন্য বেশি অর্থ আয় করতে পারো। খাওয়া, বিনোদন এবং সামাজিক যোগাযোগে কম সময় দিয়ে কাজের মধ্যে বেশি সময় দাও।

রিনেহার্ট বলেন, যদিও কম্পানির ব্যবস্থাপনায় নারীদের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু সবচেয়ে সিনিয়র জায়গাগুলোতে এখনো পুরুষদের আধিপত্য, বিশেষ করে সিইওর ক্ষেত্রে। মেইল অনলাইন, ফোর্বস, উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য